শুক্রবার (২৬ জুন) মাদকদ্রব্যের অপব্যবহার রোধ ও টেকসই সমাজ পূর্ণগঠন আন্দোলনের উদ্যোগে আয়োজিত এ কর্মসূচিতে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ, শিক্ষার্থী, জনপ্রতিনিধি, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের প্রতিনিধিরা অংশ নেন।
অনুষ্ঠানের শুরুতে হাজারও গ্রামবাসীর উপস্থিতিতে একটি বর্ণাঢ্য মাদকবিরোধী সচেতনতামূলক র্যালি এলাকার গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে। পরে স্থানীয় চন্দনী এলাকায় আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।
আলোচনা সভায় সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা ও সোনালী ব্যাংকে কর্মরত প্রিন্সিপাল অফিসার মো. মাহমুদুল হকের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন বোয়ালমারী থানার অফিসার ইনচার্জ মোস্তাফিজুর রহমান।
এ সময় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি বলেন,সাড়াদেশ মাদক বিরোধী দিবস উপলক্ষে এই ব্যতিক্রম আয়োজনকে সাধুবাদ জানায়,আইন প্রশানের পাশাপাশি সমাজের সকল শ্রেণীর মানুষকে যদি মাদকের বিরুদ্ধে সচেতন অবলম্বন করেন।নতুন প্রজন্মকে মাদকের ভয়াবহতা থেকে রক্ষা করতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পাশাপাশি পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, সামাজিক সংগঠন এবং সর্বস্তরের জনগণকে সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে।"তাহলে সমাজ থেকে মাদক চিরতরে বিদায় নিবে। সকলের কাছে আহবান জানায় আসুক মাদককে না বলি সুন্দর সমাজ গড়ি।
সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা ও সোনালী ব্যাংকে কর্মরত প্রিন্সিপাল অফিসার মো. মাহমুদুল হক বলেন, "মাদকমুক্ত, নিরাপদ ও টেকসই সমাজ গঠনে সামাজিক সচেতনতার কোনো বিকল্প নেই। তরুণদের খেলাধুলা, শিক্ষা, সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড এবং ইতিবাচক সামাজিক কার্যক্রমে সম্পৃক্ত করতে পারলে মাদকের বিস্তার অনেকাংশে প্রতিরোধ করা সম্ভব।" আমার চাওয়া সমাজের প্রতিটিস্থরে এই রকম মাকদ বিরোধী সচেতন মহল গড়ে উঠুক ও আমার আপনার সন্তানেরা এই মরণ নেশা থেকে দূরে থাকুক।
এ সময় আরো উপস্থিত ছিলেন মো. শামীম আহমেদ মোল্লা, মাওলানা নাসিরুদ্দিন, মো. ইমদাদুল হক, মো. জাকারিয়া, মো. শাহাজাহান মোল্লা, মো. মিলন মোল্লা, মো. ইলিয়াস মোল্লাসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ সহ নানা শ্রেনী মানুষ।
বক্তারা বলেন, আন্তর্জাতিক মাদক বিরোধী দিবস পালনের মূল উদ্দেশ্য কেবল একটি দিবস উদযাপন নয়; বরং সারা বছরব্যাপী মাদকবিরোধী সচেতনতা বৃদ্ধি, প্রতিরোধমূলক কার্যক্রম জোরদার এবং মাদকমুক্ত সমাজ গঠনে সম্মিলিত উদ্যোগ গ্রহণ করা। এ লক্ষ্যে সমাজের প্রতিটি শ্রেণি-পেশার মানুষের সক্রিয় অংশগ্রহণ অপরিহার্য।
অনুষ্ঠান শেষে উপস্থিত সবাই মাদককে 'না' বলার শপথ গ্রহণ করেন এবং মাদকমুক্ত, সুস্থ ও নিরাপদ সমাজ গঠনে নিজ নিজ অবস্থান থেকে কাজ করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।