বৃহস্পতিবার বিকালে শজিমেক হাসপাতালের কনফারেন্স রুমে জেলা প্রশাসন, পুলিশ, হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ, বিএনপি ও ছাত্রদলের স্থানীয় নেতাদের সঙ্গে প্রায় সাড়ে তিন ঘণ্টার বৈঠক শেষে এ ঘোষণা দেওয়া হয়।
বৈঠকে ইন্টার্ন চিকিৎসকদের দাবিগুলো নিয়ে আলোচনা হয়। পরে হাসপাতালের উপপরিচালক ডা. মঞ্জুর-এ-মোর্শেদ বলেন, সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে আলোচনা হয়েছে। ইন্টার্ন চিকিৎসকদের দাবির মধ্যে বহিরাগত হামলাকারীদের বিরুদ্ধে দলীয় শাস্তি নিশ্চিত করা হয়েছে। পাশাপাশি হাসপাতালে আর্মড আনসার মোতায়েন এবং সার্বক্ষণিক পুলিশ ফাঁড়ি স্থাপনের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। এসব আশ্বাসের ভিত্তিতে ইন্টার্ন চিকিৎসকেরা সাময়িকভাবে কর্মবিরতি প্রত্যাহার করেছেন।
হামলার ঘটনায় ছাত্রদলের ৫ নেতা বহিষ্কার
বৈঠক চলাকালেই হামলার ঘটনায় সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেয় বগুড়া শহর ছাত্রদল। এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে ১৮ ও ১৯ নম্বর ওয়ার্ডের পাঁচ নেতাকে সাংগঠনিক পদ থেকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কারের ঘোষণা দেওয়া হয়।
বহিষ্কৃতরা হলেন—বগুড়া শহর ছাত্রদলের ১৮ নম্বর ওয়ার্ডের আহ্বায়ক মো. নাফিউল ইসলাম, সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক মো. মনির হোসেন, যুগ্ম আহ্বায়ক মো. প্রান্ত ইসলাম, সদস্য রাকিবুল হাসান রাকিব এবং ১৯ নম্বর ওয়ার্ডের সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক এস এম শিহাব।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সাংগঠনিক শৃঙ্খলা ভঙ্গের সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে তাদের বহিষ্কার করা হয়েছে। বগুড়া শহর ছাত্রদলের সভাপতি এস এম রাঙ্গা ও সাধারণ সম্পাদক আতিকুর রহমান রিমন এ সিদ্ধান্ত অনুমোদন করেন।
রোগীর মৃত্যু ঘিরে সংঘর্ষ, আহত ২১ ইন্টার্ন
মঙ্গলবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে শজিমেক হাসপাতালের মেডিসিন ওয়ার্ডে আব্দুল মালেক (৫৫) নামের এক রোগীর মৃত্যু হয়। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে রোগীর স্বজনদের সঙ্গে ইন্টার্ন চিকিৎসকদের সংঘর্ষ বাধে।
ইন্টার্ন চিকিৎসকদের অভিযোগ, রোগীর স্বজনেরা বার্মিজ চাকু ও রড নিয়ে তাদের ওপর হামলা চালান। এতে অন্তত ২১ জন ইন্টার্ন চিকিৎসক আহত হন। সংঘর্ষের সময় হাসপাতালের চিকিৎসাসামগ্রীও ভাঙচুরের অভিযোগ ওঠে।
এ ঘটনায় বুধবার হাসপাতাল ভাঙচুর ও চুরির অভিযোগে সাতজনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামি করে মামলা করা হয়। পুলিশ এ পর্যন্ত ছয়জনকে গ্রেপ্তার করে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠিয়েছে।
কর্মবিরতিতে বিপাকে শত শত রোগী
হামলার প্রতিবাদ ও চিকিৎসকদের নিরাপত্তার দাবিতে বুধবার থেকে কর্মবিরতিতে যান ইন্টার্ন চিকিৎসকেরা। বৃহস্পতিবার সকালে হাসপাতালের বহির্বিভাগের টিকিট কাউন্টার বন্ধ করে অবস্থান নেন তারা। এতে দূরদূরান্ত থেকে চিকিৎসা নিতে আসা শত শত রোগী পড়েন চরম ভোগান্তিতে। তবে জরুরি বিভাগের সেবা চালু থাকায় জরুরি চিকিৎসা কার্যক্রম অব্যাহত ছিল।
পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে বৃহস্পতিবার দুপুরে হাসপাতালের মিলনায়তনে শুরু হয় জরুরি বৈঠক। এতে জেলা প্রশাসন, পুলিশ, হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ, বিএনপি ও ছাত্রদলের স্থানীয় নেতৃবৃন্দ, বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশনের (বিএমএ) প্রতিনিধি এবং চিকিৎসক নেতারা অংশ নেন।
বৈঠকে হাসপাতালের নিরাপত্তা, হামলায় জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা এবং চিকিৎসকদের নিরাপদ কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করার বিষয়গুলো গুরুত্ব পায়।
শেষ পর্যন্ত হামলার ঘটনায় দলীয় শাস্তি এবং হাসপাতালে নিরাপত্তা জোরদারের আশ্বাস পাওয়ার পর কর্মবিরতি প্রত্যাহারের ঘোষণা দেন ইন্টার্ন চিকিৎসকেরা। ফলে প্রায় ৪০ ঘণ্টার অচলাবস্থার পর শজিমেক হাসপাতালে আবারও স্বাভাবিক চিকিৎসাসেবা ফিরতে শুরু করেছে।