মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) দুপুরে রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় পারমাণবিক শক্তি করপোরেশন রোসাটমের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
রোসাটমের অটোমেটেড কন্ট্রোল সিস্টেমস (আরএএসইউ) সরবরাহ করা এই ব্যবস্থায় ৪৩টি সিস্টেমের অধীনে প্রায় ২০ হাজার যন্ত্রপাতি রয়েছে। এসব যন্ত্রপাতির মাধ্যমে চুল্লির স্থিতিশীলতাসহ প্রক্রিয়া-সংশ্লিষ্ট সাত হাজারের বেশি প্যারামিটার পর্যবেক্ষণ করা হবে। এতে বিদ্যুৎকেন্দ্রের নিরাপদ ও দক্ষ পরিচালনায় সহায়তা মিলবে।
এই ব্যবস্থার গুরুত্বপূর্ণ অংশ হলো অপারেটর ইনফরমেশন সাপোর্ট সিস্টেম (ওআইএসএস)। বিদ্যুৎ ইউনিটের ডিজিটাল টুইন প্রযুক্তি ব্যবহার করে আরএএসইউ এটি তৈরি করেছে। প্রথম ইউনিটে ইতোমধ্যে সিস্টেমটি সংযুক্ত করা হয়েছে এবং এটি স্টার্টআপ কার্যক্রমে অংশ নিচ্ছে। দ্বিতীয় ইউনিটেও একই ধরনের ব্যবস্থা স্থাপন করা হবে।
এ ছাড়া, এআইসিএস ৩৬০টি প্রক্রিয়া-সংশ্লিষ্ট সিস্টেম থেকে তথ্য বিশ্লেষণ করে সম্ভাব্য বিচ্যুতি শনাক্ত করতে পারে। জরুরি পরিস্থিতিতে করণীয় সম্পর্কে অপারেটরদের পরামর্শ দিতে এতে ৮০টিরও বেশি নির্দেশিকা রয়েছে।
জটিল পরিচালনাসংক্রান্ত তথ্য সহজবোধ্যভাবে উপস্থাপনের মাধ্যমে সিস্টেমটি অপারেটরদের তথ্যভিত্তিক সিদ্ধান্ত নিতে এবং পরিস্থিতি আরও কার্যকরভাবে মোকাবিলা করতে সহায়তা করবে।
রোসাটমের মহাপরিচালক আলেক্সি লিখাচেভ বলেন, ‘রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র শুধু রাশিয়া ও বাংলাদেশের মধ্যে সহযোগিতার সবচেয়ে বড় প্রকল্পই নয়, আধুনিক স্বয়ংক্রিয়করণ ও নিয়ন্ত্রণ প্রযুক্তি ব্যবহারের ক্ষেত্রেও এটি আমাদের একটি অগ্রণী প্রকল্প। বিদেশে রোসাটমের নির্মিত কোনো বিদ্যুৎকেন্দ্রে এই প্রথম অপারেটর ইনফরমেশন সাপোর্ট সিস্টেম বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।’
তিনি আরও বলেন, এই সিস্টেম পরিস্থিতি মোকাবিলায় সাড়া দেওয়ার সময় কমাবে, পরিচালন ব্যয় হ্রাস করবে এবং নিয়ন্ত্রণকক্ষের কর্মীদের জন্য নির্ভরযোগ্য সহায়ক হিসেবে কাজ করবে।
প্রসঙ্গত, জেনারেশন থ্রি প্লাস (৩+) প্রযুক্তির দুটি ভিভিইআর-১২০০ চুল্লি নিয়ে নির্মাণাধীন রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের নির্মাণকাজ বাস্তবায়ন করছে রোসাটমের প্রকৌশল বিভাগ এটমস্ট্রয় এক্সপোর্ট।