মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) ভুক্তভোগী পরিবার সাংবাদিকদের সহযোগিতা চেয়ে বিষয়টি উপস্থাপন করেন। আদালতের নির্দেশনায় তারাকান্দা থানার আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী বিরোধীয় বিতর্কিত জমিতে উপস্থিত হয়। কিন্তু আদালতের রায় ও পুলিশের উপস্থিতি উপেক্ষা করে স্থানীয় বিশকা ইউনিয়ন বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক লিটন মন্ডল ও সুমন সরকার ও স্থানীয় বিএনপি কর্মী অলিসহ কয়েকজন নেতা-কর্মী উপস্থিত পুলিশের সাথে তীব্র বাকবিতণ্ডায় জড়িয়ে পড়ে। একপর্যায়ে আইনকে তোয়াক্কা না করে আদালতের নির্দেশ বাস্তবায়নে বাধা সৃষ্টি করে। তারা বাদী পক্ষের লোকজনের ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। স্থানীয়দের হস্তক্ষেপে বাদী পক্ষ বড় ধরনের প্রাণহানি থেকে রক্ষা পাইনি।
আইনি নোটিশ সূত্র অনুযায়ী জানা গেছে, বিজ্ঞ আদালতের নির্দেশনায় (বিবিধ কোর্ট দরখাস্ত নং-২৫৭/২০২৫ এবং বিজ্ঞ আদালতের স্মারক নং-৪১৩৬, অনুযায়ী ০৭ অক্টোবর ২০২৬ ইং, ধারা- ১৪৫ ফৌজদারী কার্যবিধি) তারাকান্দা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে নির্দেশনা দেয়া হয়। আদেশে তারাকান্দা উপজেলার কাকনীকোনা মৌজার ১.০০ একর (বর্তমানে পুকুর শ্রেনীর) জমি ১ম পক্ষ মো: আঃ রাজ্জাককে (পিতা- মৃত এছির উদ্দিন ওরফে কালা সেক) বুঝিয়ে দেয়ার এবং ২য় পক্ষ (সেকান্দর আলী ওরফে মোগল শেখ ও অন্যান্য) যাতে কোনো বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করতে না পারে তা নিশ্চিত করার নির্দেশ ছিল। নোটিশটি জারি করেন তারাকান্দা থানার সাব-ইনস্পেক্টর (নিরস্ত্র) লিটন চন্দ্র পাল।
ভুক্তভোগী ও মামলার বাদী মো: আঃ রাজ্জাক ক্ষোভ ও কান্নাজড়িত কণ্ঠে জানান, তিনি একজন অসহায় ও গরিব মানুষ। দীর্ঘ প্রায় ২ বছর ধরে মামলা চালিয়ে বিজ্ঞ আদালতের রায় পেয়ে জমি বুঝে নিতে এসেছিলেন। কিন্তু লিটন মন্ডল, অলি ও তাদের লোকজন পুলিশকে বাধা দিয়ে তাদের জমি বুঝিয়ে নিতে দেয়নি এবং তিনি সরকারের ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে এর উপযুক্ত বিচার চান।
বাদীর ছেলে রুবেল মিয়া অভিযোগ করে জানান, বিসকা ইউনিয়ন বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক লিটন মন্ডল পাতি নেতা অলি,বিপ্লব, সেকান্দর, আঃ হাকিম, কাজল, নয়ন মিয়া তাদের জমিতে ঢুকে হামলা চালিয়েছে। পুলিশের সামনেই তাকে মারতে তেড়ে এসেছে। এলাকার লোকজন তাদের বাঁচিয়েছে, না হলে তারা মেরেই ফেলতো বলে উল্লেখ করেন রুবেল। তিনি আরও জানান, সরকারী নির্দেশ এবং আদালতের রায় অমান্য করে এরা জোর খাটিয়ে রাজত্ব কায়েম করতে চায়। এলাকায় শালিস করে জমি হাতিয়ে নিতে চায়। তাই আমি এদের দৃষ্টান্তমূলক বিচার দাবি করছি।
অন্যতম ভুক্তভোগী ফাতেমা আক্তার ও আয়েশা আক্তার আক্ষেপ প্রকাশ করে জানান, নিজেদের জমি থাকার পরও তারা অন্যের জায়গায় আশ্রিত হয়ে দিন কাটাচ্ছেন। আদালতের রায়ে জমি বুঝিয়ে দেয়ার কথা থাকলেও বিএনপি নেতারা টাকা খেয়ে পুলিশকে জমি বুঝিয়ে দিতে দেয়নি বলে তারা অভিযোগ তোলেন এবং জমি ফেরত দেয়া না হয় থাকার স্থায়ী ব্যবস্থা করে দেয়ার পাশাপাশি দোষীদের শাস্তি দাবি করেন।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত বিএনপি নেতা লিটন মন্ডলের সাথে যোগাযোগ করা হলেও তারা ক্যামেরার সামনে বা আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো কথা বলতে রাজি হননি। তারা আদালতের রায়কে তোয়াক্কা না করে নিজেদের শক্তিতে এলাকায় শালিস বৈঠকের মাধ্যমে বিষয়টি ফয়সালা করতে চাচ্ছেন বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।
ঘটনার বিষয়ে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) মো: আবদুল্লাহ আল মামুন জানান, ঘটনাটি সম্পর্কে তারা অবহিত হয়েছেন এবং এলাকায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে ও আদালতের নির্দেশ অক্ষুণ্ন রাখতে পুঙ্খানুপুঙ্খ তদন্ত সাপেক্ষে দ্রুত কঠোর আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।