আজ সোমবার( ১২) বিকেল তিনটার সময় এ কর্মসূচির আওতায় পঞ্চগড় জেলা প্রশাসক কার্যলয়ে অবহিতি করণ সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
নারীপ্রধান পরিবারের তথ্য সংগ্রহ কার্যক্রম শুরু হচ্ছে ১২ অক্টোবর থেকে। সংগৃহীত তথ্য যাচাই-বাছাই করে যোগ্য পরিবারগুলোকে ফ্যামিলি কার্ড ও নির্ধারিত ভাতা প্রদান করা হবে।
সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের ১২ অক্টোবর এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।
প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, গত ১০ মার্চ প্রধানমন্ত্রী ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচির পাইলটিং কার্যক্রমের শুভ উদ্বোধন করেন। পাইলটিং পর্যায়ে দেশের আটটি বিভাগের ৪৪টি জেলার ৫৫টি উপজেলা ও সিটি করপোরেশনের ৫৭টি ইউনিটে মোট ১ লাখ ২২ হাজার ৯৪৮টি পরিবারের তথ্য সংগ্রহ করা হয়। প্রোক্সি মিনস টেস্ট (পিএমটি) স্কোরের ভিত্তিতে নির্বাচিত ৭১ হাজার ৮৩১ জন যোগ্য উপকারভোগীকে ফ্যামিলি কার্ড ও ভাতা প্রদান করা হয়েছে।
এ কার্যক্রম পরিচালনায় বরাদ্দকৃত ৮৬ কোটি ৬০ লাখ টাকার বিপরীতে ৬৫ কোটি ৭৩ লাখ টাকা ব্যয় হয়েছে। এর মধ্যে ৫৭ কোটি ২০ লাখ টাকা ভাতা হিসেবে প্রদান করা হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে আরও জানানো হয়, জুলাই ২০২৬ থেকে কর্মসূচিটির মূল বাস্তবায়ন কার্যক্রম শুরু হয়েছে। ২০২৬-২৭ অর্থবছরে এ কর্মসূচির জন্য ১৪ হাজার ৫০০ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে ১ হাজার ২০০ কোটি টাকা ভাতা হিসেবে বরাদ্দ রাখা হয়েছে।
ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচি সফলভাবে বাস্তবায়নের জন্য ‘ফ্যামিলি কার্ড বাস্তবায়ন নীতিমালা, ২০২৬’ প্রণয়ন করা হয়েছে। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর হালনাগাদ প্রোক্সি মিনস টেস্ট (পিএমটি) পদ্ধতিতে দেশের পরিবারগুলোকে আর্থসামাজিক অবস্থার ভিত্তিতে পাঁচটি শ্রেণিতে ভাগ করা হয়েছে। শ্রেণিগুলো হলো—অতিদরিদ্র, দরিদ্র, ঝুঁকিপূর্ণ নিম্নমধ্যবিত্ত, মধ্যবিত্ত ও উচ্চবিত্ত।
পিএমটি স্কোর অনুযায়ী ৮৬০ নম্বর বা তার কম নম্বর পাওয়া নারীপ্রধান পরিবার ভাতা পাওয়ার যোগ্য হিসেবে বিবেচিত হবে। সব নারীপ্রধান পরিবার ফ্যামিলি কার্ড পাবেন। তবে নিম্ন স্কোরপ্রাপ্ত প্রথম, দ্বিতীয় ও তৃতীয় কোয়ান্টাইলভুক্ত নারীপ্রধান পরিবার ভাতা পাবেন।
দেশব্যাপী তথ্য সংগ্রহ কার্যক্রম পরিচালনার জন্য ইতোমধ্যে ‘ফ্যামিলি কার্ড খানা তথ্যভাণ্ডার এর তথ্য সংগ্রহ নির্দেশিকা, ২০২৬’ প্রণয়ন করা হয়েছে। এ কার্যক্রমের জন্য ৬৬ হাজার ৮১৫ জন তথ্য সংগ্রহকারী এবং ৬ হাজার ৬৮১ জন সুপারভাইজার নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। তাঁদের প্রথম পর্যায়ের প্রশিক্ষণও সম্পন্ন হয়েছে।
তথ্য সংগ্রহকারীরা মোবাইল নেটওয়ার্ক ব্যবহার করে বিশেষায়িত ট্যাবলেট ডিভাইসের মাধ্যমে বাড়ি বাড়ি গিয়ে সরেজমিনে তথ্য সংগ্রহ করবেন। পরে সংগৃহীত তথ্য সরাসরি অনলাইন ডেটাবেজে অন্তর্ভুক্ত করা হবে।
সরকারের আশা, এ কর্মসূচি বাস্তবায়নের মাধ্যমে নারীপ্রধান পরিবারের সামাজিক নিরাপত্তা জোরদার হবে এবং নারীর অর্থনৈতিক সক্ষমতা বৃদ্ধির পাশাপাশি জাতীয় উন্নয়ন ও সামাজিক ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।
এসময় সভায় উপস্থিত ছিলেন জেলা প্রশাসক মোছা শুকরিয়া পারভীন, জেলা পুলিশ সুপার আবু সাইম, জেলা প্রেসক্লাব সভাপতি মোঃ রাশেদুজ্জামান রাশেদ, সাধারণ সম্পাদক ডিজার হোসেন বাদশা প্রমূখ।