ডেঙ্গু রোগীদের সারসংক্ষেপ বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, আক্রান্তদের বড় অংশই প্রাপ্তবয়স্ক। মোট ৯০১ জন রোগীর মধ্যে প্রাপ্তবয়স্ক ৮৩৩ জন। যা মোট রোগীর প্রায় ৯২ দশমিক ৫ শতাংশ। বিপরীতে শিশু রোগীর সংখ্যা ৬৮ জন। যা মোট রোগীর প্রায় ৭ দশমিক ৫ শতাংশ।
প্রাপ্তবয়স্ক রোগীদের মধ্যেও পুরুষের সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি। মোট ৮৩৩ জন প্রাপ্তবয়স্ক রোগীর মধ্যে পুরুষ ৬১০ জন, এবং নারী ২২৩ জন। অর্থাৎ প্রাপ্তবয়স্ক রোগীদের প্রায় ৭৩ শতাংশই পুরুষ। নারী রোগীর হার প্রায় ২৭ শতাংশ। অন্যদিকে, মোট ৬৮ শিশু ডেঙ্গু রোগীর চিকিৎসা হয়েছে। অর্থাৎ হাসপাতালটিতে ডেঙ্গু আক্রান্তদের মধ্যে শিশুদের তুলনায় প্রাপ্তবয়স্কদের চাপই অনেক বেশি ছিল।
রাজশাহী বিভাগীয় স্বাস্থ্য কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, শুধু আগস্ট মাসে বিভাগের আট জেলার মধ্যে চাঁপাইনবাবগঞ্জে আক্রান্ত ৬৪৩ জন, সিরাজগঞ্জে ৩৬৩ জন, বগুড়ায় ১৬৫ জন, নওগাঁয় ৪১ জন, নাটোরে ৫৬ জন, পাবনায় ৪২ জন, রাজশাহীতে ২৫ জন ও জয়পুরহাটে ৪ জন আগস্টজুড়ে আক্রান্ত হয়ে সেবা নিয়েছেন। অপরদদিকে, বিভাগের তিন মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মধ্যে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ২২৮ জন। এরমধ্যে দুইজনের মৃত্যু হয়েছে। বগুড়ার শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ৮৮ জন এবং সিরাজগঞ্জ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ২১৯ জন চিকিৎসা নিয়েছেন।
বেশি রোগী চিকিৎসা নেওয়া রামেক হাসপাতালের আগস্ট মাসের ডেঙ্গু পরিস্থিতির তথ্য বিশ্লেষণে দেখা গেছে, মাসের শুরুতে হাসপাতালে ডেঙ্গুতে চিকিৎসাধীন রোগী ছিলেন ৮ জন, যা ৩০ আগস্ট বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৫০ জনে। অর্থাৎ এক মাসে চিকিৎসাধীন রোগীর সংখ্যা বেড়েছে ৪২ জন বা ৫২৫ শতাংশ। ১ থেকে ৩০ আগস্টের মধ্যে ২৫ আগস্টের তথ্য বাদে মোট ২৯ দিনের হিসাবে নতুন করে ২২১ জন ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। একই সময়ে ছাড়পত্র পেয়েছেন ১৭৬ জন। ডেঙ্গুতে মৃত্যু হয়েছে দুইজনের।