জামায়াত আমির বলেন, বিএনপি তাদের সংস্কার কর্মসূচির প্রথম দফার সঙ্গেই ‘গাদ্দারি’ করছে। তিনি বলেন, “আপনারাই বলেছিলেন সংবিধান সংস্কার প্রয়োজন। এখন আবার বলছেন, সংবিধান সংস্কার কী তা বুঝেন না। তাহলে না বুঝেই কি প্রথম দফায় সংস্কারের কথা লিখেছিলেন?”
তিনি আরও বলেন, বিএনপি নির্বাচনি ইশতেহারে দেশের কোথাও অনির্বাচিত প্রতিনিধি না রাখার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল। অথচ সরকার গঠনের পর ইতোমধ্যে ৪২ জেলায় প্রশাসক নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। “প্রশাসক কি নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি? তাহলে তো আপনারাই নিজেদের ইশতেহারের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করছেন,” বলেন তিনি।
বিচার বিভাগের স্বাধীনতার প্রসঙ্গ তুলে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, বিএনপি আগে বিচার বিভাগের স্বাধীনতা নিশ্চিত করার কথা বললেও এখন সে অবস্থান থেকে সরে এসেছে। তার দাবি, “অতীতের ফ্যাসিবাদী কায়দায় বিচার বিভাগকে ব্যবহার করার পথেই হাঁটছে তারা।”
তিনি অভিযোগ করেন, গুম নির্মূলে স্বাধীন কমিশন গঠনের বিরোধিতা করছে বিএনপি। একইসঙ্গে স্বাধীন পিএসসি গঠনেও দলটি অনাগ্রহী বলে মন্তব্য করেন তিনি।
জামায়াত আমির বলেন, “স্বৈরাচার যেই পথে চলেছিল, আপনারাও সেই পথেই হাঁটছেন। এই পথ থেকে ফিরে না এলে পরিণতিও একই হবে।”
সংসদের মেয়াদ উল্লেখ করে তিনি বলেন, “সংসদের হাতে এখনো আড়াই মাস সময় আছে। ভুলগুলো সংশোধন করুন। আমাদের উদারতাকে দুর্বলতা ভাববেন না। ভালো কাজ করলে আমরা পানির মতো তরল, আর জনগণের বিরুদ্ধে গেলে ইস্পাতের চেয়েও কঠিন হবো।”
দুর্নীতি ও চাঁদাবাজির অভিযোগ তুলে তিনি বলেন, “মানুষ এখন আপনাদের চাঁদাবাজির দল বলে। একজন চাঁদাবাজকেও জবাবদিহির আওতায় আনা হয়নি। দেশজুড়ে দখলবাজি ও চাঁদাবাজির মহোৎসব চলছে।”
তিনি আরও অভিযোগ করেন, বাংলাদেশ ব্যাংকে ‘দলকানা’ লোক বসানো হয়েছে বলেও জনগণের মধ্যে সমালোচনা রয়েছে।