গত ২৮ ফেব্রুয়ারি নাহিদ ইসলামকে আহ্বায়ক এবং আখতার হোসেনকে সদস্যসচিব করে আত্মপ্রকাশ করে এনসিপি। শুরু থেকেই প্রচলিত রাজনৈতিক দলগুলোর তুলনায় ভিন্ন কাঠামোয় পরিচালিত হচ্ছিল দলটি। উত্তর ও দক্ষিণ অঞ্চলের পৃথক মুখ্য সংগঠক পদও ছিল সেই কাঠামোর অংশ।
তবে সাংগঠনিক জটিলতা ও দায়িত্বের দ্বন্দ্ব এড়াতেই পুনর্গঠনের এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন দলটির নেতারা।
নতুন কাঠামো অনুযায়ী, এনসিপি পরিচালিত হবে তিন স্তরে। সর্বোচ্চ পর্যায়ে থাকবে ‘পলিটিক্যাল কাউন্সিল’, যা হবে নীতিনির্ধারণী ফোরাম। এরপর থাকবে ‘নির্বাহী পরিষদ’, যেখানে সিদ্ধান্ত গ্রহণ, বিশ্লেষণ, পর্যবেক্ষণ ও পর্যালোচনার কাজ হবে। সর্বশেষ স্তরে থাকবে ‘কেন্দ্রীয় কমিটি’, যা সাধারণ ফোরাম হিসেবে কাজ করবে।
একই সঙ্গে বর্তমান আহ্বায়ক কমিটির মেয়াদও বাড়ানো হচ্ছে বলে জানা গেছে।
এনসিপির উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম বলেন, “মুখ্য সংগঠক ও মুখ্য সমন্বয়ক পদগুলো প্রচলিত কাঠামোর মতো ছিল না। এতে কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা তৈরি হচ্ছিল এবং কাজের জায়গা কঠিন হয়ে যাচ্ছিল। সংগঠনের সর্বোত্তম আউটপুট নিশ্চিত করতেই আমরা পুনর্গঠনের চিন্তা করছি।”
তিনি আরও জানান, দায়িত্ব পুনর্বণ্টনের মাধ্যমে প্রত্যেকের আলাদা দায়িত্ব নির্ধারণ করা হবে।
নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য আব্দুল্লাহ আল আমিন বলেন, বর্তমানে দলের মধ্যে চার-পাঁচ ধরনের প্যানেল রয়েছে। সেগুলোকে আরও সরল ও কার্যকর কাঠামোয় আনার চিন্তা চলছে।
তার ভাষায়, “আহ্বায়ক, সদস্যসচিব ও সংগঠক—এই ফরম্যাটে কাঠামো সাজানো যায় কি না, তা নিয়ে আলোচনা হচ্ছে। সংগঠনকে আরও গতিশীল করে তৃণমূলে পৌঁছে দিতেই এই উদ্যোগ।”
দলটির নেতারা জানিয়েছেন, আগামী ফেব্রুয়ারির আগেই কাউন্সিল আয়োজন করা হবে। সেখানে দলের চেয়ারম্যান নির্বাচন করা হবে। নতুন কাঠামোয় বর্তমান কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্যরা বহাল থাকবেন, তবে দায়িত্বের পুনর্বণ্টন হবে।
এই পরিবর্তনের মাধ্যমে এনসিপিকে আরও সুসংগঠিত ও কার্যকর রাজনৈতিক দলে রূপ দেওয়ার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।