স্ট্যাটাসে তিনি লিখেছেন—“ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে নতুন করে কাঁটাতারের জন্য জমি বরাদ্দ ও বিভেদের দেয়াল নির্মাণের সাম্প্রতিক উদ্যোগ শুধু দুই দেশের সম্পর্ক নয়, পুরো দক্ষিণ এশিয়ার ভবিষ্যৎ নিয়েই নতুন উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। সীমান্ত কখনো কেবল মানচিত্রের রেখা নয়; এটি মানুষের জীবন, মানবাধিকার, পারিবারিক বন্ধন, অর্থনৈতিক বাস্তবতা ও ইতিহাসের সঙ্গে গভীরভাবে জড়িত।
অথচ দুঃখজনকভাবে এই সীমান্তেই বছরের পর বছর নিরস্ত্র বাংলাদেশি নাগরিক হত্যার ঘটনা মানবিক বিবেককে নাড়া দিয়ে যাচ্ছে। আমরা বিশ্বাস করি, সভ্য বিশ্বে সীমান্ত ব্যবস্থাপনা ভয়, গুলি ও বিভেদের দেয়াল দিয়ে নয়; পারস্পরিক সম্মান, মানবিক মূল্যবোধ ও দায়িত্বশীল কূটনীতির মাধ্যমে পরিচালিত হওয়া উচিত।
আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইন ও মানবিক নীতিমালার আলোকে প্রতিটি মানুষের জীবন ও মর্যাদা সমানভাবে সুরক্ষিত হওয়া জরুরি।
বাংলাদেশ ও ভারতের জনগণের সম্পর্ক শত বছরের ইতিহাস, সংস্কৃতি, ভাষা ও মানবিক সংযোগের ওপর দাঁড়িয়ে আছে। তাই এমন কোনো পদক্ষেপ কাম্য নয়, যা দুই দেশের জনগণের মধ্যে অবিশ্বাস, দূরত্ব ও অস্থিতিশীলতার পরিবেশ তৈরি করে।
আমরা বাংলাদেশ সরকারের প্রতি জোরালো আহ্বান জানাই— সীমান্ত হত্যা, মানবাধিকার লঙ্ঘন এবং সাম্প্রতিক সীমান্তে বিভেদের অবকাঠামো নির্মাণের বিষয়ে কার্যকর কূটনৈতিক পদক্ষেপ গ্রহণ, আন্তর্জাতিক মহলে বিষয়টি শক্তভাবে উপস্থাপন এবং দেশের সার্বভৌম স্বার্থ ও নাগরিকদের নিরাপত্তা রক্ষায় প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণ করার জন্য।
আজ দক্ষিণ এশিয়ার প্রয়োজন সংঘাত নয়, সংহতি; দেয়াল নয়, সহযোগিতা; ভয় নয়, আস্থা।
মানবাধিকার, জনগণের মর্যাদা, ন্যায়ভিত্তিক কূটনীতি ও পারস্পরিক সম্মানের ভিত্তিতেই গড়ে উঠতে পারে একটি শান্তিপূর্ণ, স্থিতিশীল ও সমৃদ্ধ দক্ষিণ এশিয়া।”