শুক্রবার (১৫ মে) সকালে বিষয়টি নিশ্চিত করেন বর্তমান কমিটির দপ্তর সম্পাদক মোহাম্মদ রাফসান জানি রিয়াজ। এর আগে বৃহস্পতিবার মীর মোহাম্মদ শোয়াইবকে আহ্বায়ক এবং আরিফ মঈনুদ্দীনকে সদস্য সচিব করে ১৬৮ সদস্যের চট্টগ্রাম মহানগর কমিটি ঘোষণা করা হয়।
কমিটি ঘোষণার একদিনের মাথায় পদত্যাগের ঘটনায় সংগঠনটির অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব প্রকাশ্যে এসেছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
পদত্যাগী নেতাদের অভিযোগ, নতুন কমিটিতে অযোগ্য ও বিতর্কিত ব্যক্তিদের গুরুত্বপূর্ণ পদ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি কয়েকজন দায়িত্বশীল নেতার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, টাকার বিনিময়ে পদ বাণিজ্য, নারী কেলেঙ্কারি এবং মামলা বাণিজ্যের মাধ্যমে অর্থ উপার্জনের মতো গুরুতর অভিযোগ তোলা হয়।
পদত্যাগী দপ্তর সম্পাদক মোহাম্মদ রাফসান জানি রিয়াজ বলেন, “দলের জন্য যারা নিবেদিতপ্রাণ ও ত্যাগী, তাদের যথাযথ মূল্যায়ন করা হয়নি। আমরা এই কমিটির পুনর্মূল্যায়ন চাই এবং বিষয়টি কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামকে জানাবো।”
সহসাংগঠনিক সম্পাদক পদ থেকে পদত্যাগ করা হুজ্জাতুল ইসলাম সাঈদ বলেন, “আদর্শ, নৈতিকতা ও স্বচ্ছ রাজনৈতিক চর্চার প্রত্যাশা থেকে আমরা এনসিপির রাজনীতিতে যুক্ত হয়েছিলাম। কিন্তু সাম্প্রতিক কমিটি গঠন ও বিভিন্ন অনৈতিক কর্মকাণ্ডে আমরা হতাশ।”
তিনি আরও বলেন, রাজনৈতিক সংগঠনে দুর্নীতি ও ব্যক্তিস্বার্থের চর্চা গ্রহণযোগ্য নয় এবং ভবিষ্যতেও তারা জনস্বার্থ, ন্যায়বিচার ও স্বচ্ছ রাজনৈতিক সংস্কৃতির পক্ষে কাজ করবেন।
পদত্যাগীদের মধ্যে রয়েছেন একাধিক যুগ্ম আহ্বায়ক, যুগ্ম সদস্যসচিব, সাংগঠনিক সম্পাদক, সহসাংগঠনিক সম্পাদক ও সদস্য।
তাদের মধ্যে যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবে পদত্যাগ করেছেন সৈয়দ এহছানুল হক ও কামরুল কায়েস। যুগ্ম সদস্যসচিব পদ ছেড়েছেন মো. সোহরাব চৌধুরী, হামিদুল ইসলাম, বদিউল আলম, মোহাম্মদ সরোয়ার আলম ও ইকবাল মাসুদ।
এছাড়া সিনিয়র সাংগঠনিক সম্পাদক রকিবুল ইসলাম, সহসাংগঠনিক সম্পাদক ডা. মাহতাব উদ্দিন আহমদ, হুজ্জাতুল ইসলাম সাঈদ, সাদমানুর রহমান চৌধুরী, সুফি মোহাম্মদ মিনহাজ, মোহাম্মদ কারিওল মাওলা, মোহাম্মদ আকরাম হোসেন, মোশাররফ হোসেন রবিন, নুরুল আবছার সাইবান ও মোস্তফা রাশেদ আজগর পদত্যাগ করেছেন।
দপ্তর সম্পাদক মোহাম্মদ রাফসান জানি রিয়াজ, সমাজকল্যাণ সম্পাদক আলহাজ মো. নুরুদ্দীন, সহপ্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক মোহাম্মদ বেলাল হোসেন এবং সদস্য মো. ওমর সাঈদ ও তাহজীব চৌধুরীও পদত্যাগকারীদের তালিকায় রয়েছেন।