আইটিভি নিউজের পলিটিক্যাল এডিটর রবান্ট পেস্টনের নেওয়া ‘টকিং পলিটিকস’ পডকাস্টে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে তিনি এ কথা বলেন। যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে একটি ভঙ্গুর দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর এটিই প্রধানমন্ত্রীর প্রথম সাক্ষাৎকার।
যুদ্ধবিরতির পরও ইসরায়েল লেবাননে হামলা অব্যাহত রেখেছে। বুধবারের হামলায় সাম্প্রতিক সময়ের মধ্যে সবচেয়ে বেশি প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে বলে জানা গেছে, যা যুদ্ধবিরতির স্থিতিশীলতাকে হুমকির মুখে ফেলেছে।
এদিকে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু বলেছেন, লেবাননের সঙ্গে যত দ্রুত সম্ভব আলোচনা শুরু করতে তার মন্ত্রিসভা বৈঠকে বসবে।
এই হামলা যুদ্ধবিরতির লঙ্ঘন কি না এ প্রশ্নে স্টারমার বলেন, “যখন যুদ্ধবিরতির সব বিস্তারিত আমাদের জানা নেই, তখন এটিকে লঙ্ঘন বলা কঠিন।”
তবে তিনি স্পষ্ট করে বলেন, “কিন্তু আমি পরিষ্কার করে বলতে চাই, এগুলো ভুল। এমন হওয়া উচিত নয়। এগুলো বন্ধ হওয়া উচিত।”
তিনি আরও বলেন, “প্রশ্নটা প্রযুক্তিগত নয়, এটা চুক্তি লঙ্ঘন কি না। আসল প্রশ্ন হলো, এটি নীতির বিষয়।”
স্টারমার মনে করেন, লেবাননে হামলা বন্ধ করা যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধবিরতি চুক্তির অংশ হওয়া উচিত।
সাক্ষাৎকারে তিনি গুরুত্বপূর্ণ জলপথ হরমুজ প্রণালী পুনরায় চালুর বিষয়েও কথা বলেন। ইরানের উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী আইটিভি নিউজকে বলেছেন, প্রণালিটি এখন ‘খোলা’। তবে স্টারমার বলেন, বিষয়টি বাস্তবে কার্যকর হয়েছে কি না, তা যাচাই করা দরকার।
তিনি বলেন, “আমাদের অবস্থান হলো, খোলা মানে সত্যিই খোলা। অর্থাৎ নিরাপদ নৌ চলাচল নিশ্চিত হতে হবে, কোনো টোল ছাড়াই জাহাজ চলাচল করতে পারবে।”
যুদ্ধবিরতির অংশ হিসেবে ইরান প্রণালিতে চলাচলকারী জাহাজের ওপর টোল আরোপ করতে পারে, এমন প্রতিবেদনও এসেছে। এ প্রসঙ্গে স্টারমার বলেন, “কয়েক দিন অপেক্ষা করতে হবে। দুই-তিন-চার দিনের মধ্যে বিষয়টি পরীক্ষা হয়ে যাবে। প্রথম দিন বা দ্বিতীয় দিনে কে কী বলল, সেটাই শেষ কথা নয়।”
প্রণালিটি বন্ধ থাকায় বিশ্বজুড়ে শেয়ারবাজারে পতন এবং তেলের দাম বেড়ে যাওয়ার প্রভাব পড়েছে। এ বিষয়ে স্টারমার জ্বালানি খাতে স্থিতিশীলতা ও স্বনির্ভরতা বাড়ানোর ওপর জোর দেন।
তিনি বলেন, “বিশ্বের বিভিন্ন ঘটনার কারণে দেশের মানুষের জ্বালানি বিল ওঠানামা করছে, এটা দেখে আমি ক্লান্ত। ভ্লাদিমির পুতিন বা ডোনাল্ড ট্রাম্পের পদক্ষেপের প্রভাব যেন সরাসরি আমাদের ওপর না পড়ে।”
এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যুদ্ধবিরতির আগে ইরানকে হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছিলেন, প্রণালি না খুললে ‘একটি পুরো সভ্যতা ধ্বংস হয়ে যাবে’। এ ভাষা নিয়ে স্টারমার সরাসরি সমালোচনা না করলেও বলেন, “এটা এমন ভাষা নয়, যা আমি ব্যবহার করতাম।”
তিনি আরও বলেন, “যুক্তরাজ্যের নিজস্ব নীতি ও মূল্যবোধ আছে, এবং আমরা সবসময় সেগুলোর ভিত্তিতেই সিদ্ধান্ত নেব।”
ইরান যুদ্ধ নিয়ে যুক্তরাজ্য সরাসরি জড়াবে না বলেও পুনর্ব্যক্ত করেন স্টারমার। তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রকে কেবল প্রতিরক্ষামূলক কাজে ব্রিটিশ ঘাঁটি ব্যবহারের অনুমতি দেওয়া হয়েছে।
স্টারমার বলেন, “আমরা এই যুদ্ধে জড়িয়ে পড়ব না। আমাদের সেনাদের ঝুঁকির মধ্যে ফেলতে হলে একটি বৈধ ভিত্তি থাকতে হবে।”
যদিও ইরানের উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী অভিযোগ করেছেন, যুক্তরাজ্য তাদের ঘাঁটি ব্যবহার করে যুক্তরাষ্ট্রকে আক্রমণাত্মক অভিযান চালাতে দিয়েছে। তবে স্টারমার তা অস্বীকার করে বলেন, “আমাদের ঘাঁটি বেসামরিক লক্ষ্যবস্তুতে আক্রমণের জন্য ব্যবহার করা হচ্ছে না।”
এদিকে উপসাগরীয় নেতাদের সঙ্গে বৈঠক অব্যাহত রেখেছেন স্টারমার। তিনি ইতোমধ্যে সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ বিন জায়েদ আল নাহিয়ানের সঙ্গে বৈঠক করেছেন।
অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে নতুন দফা আলোচনা পাকিস্তানে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। এতে ট্রাম্প প্রশাসনের পক্ষ থেকে ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স এবং বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ অংশ নেবেন।