আল জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সম্প্রতি এক বিবৃতিতে টনি ব্লেয়ার বলেন, ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অভিযানে ব্রিটেনের প্রথম দিন থেকেই সমর্থন দেওয়া উচিত ছিল। তার এই বক্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় স্কাই নিউজকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ইভেট কুপার সরাসরি দ্বিমত পোষণ করেন।
কুপার বলেন, “আমি এই বক্তব্যের সঙ্গে একেবারেই একমত নই। রাজনীতিতে এমন কিছু মানুষ আছেন যারা মনে করেন পরিস্থিতি যাই হোক না কেন আমাদের সব সময় যুক্তরাষ্ট্রকে সমর্থন করতে হবে। আবার কেউ কেউ মনে করেন কোনো পরিস্থিতিতেই যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সামরিক পদক্ষেপে অংশ নেওয়া উচিত নয়।”
তিনি আরও বলেন, এই দুই ধরনের অবস্থানের কোনোটিই ব্রিটেনের জাতীয় স্বার্থ রক্ষা করে না। তার মতে, প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমারের মূল দায়িত্ব হলো ব্রিটিশ নাগরিকদের স্বার্থ ও দেশের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, এবং তিনি সেটিই করছেন।
সাক্ষাৎকারে কুপারকে প্রশ্ন করা হয়, তিনি কি টনি ব্লেয়ারকে যুক্তরাষ্ট্রের ‘অনুগত’ বলছেন কি না। জবাবে তিনি বলেন, মূল বিষয় হলো ইরাক যুদ্ধের সময় যে ভুলগুলো হয়েছিল সেগুলো থেকে শিক্ষা নেওয়া।
উল্লেখ্য, ২০০৩ সালে তৎকালীন লেবার সরকারের প্রধানমন্ত্রী টনি ব্লেয়ারের নেতৃত্বে ব্রিটেন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ইরাক যুদ্ধে অংশ নেয়। পরবর্তীতে সেই সিদ্ধান্ত দেশ-বিদেশে ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়ে।
বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমান লেবার সরকার সেই অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংকটের ক্ষেত্রে আরও সতর্ক ও স্বাধীন পররাষ্ট্রনীতি বজায় রাখার চেষ্টা করছে।