শুক্রবার (১ মে) সকালে ৭টায় জীবতলী শান্তিপুর বনবিহার প্রাঙ্গণে এ আয়োজন অনুষ্ঠিত হয়। ভোরের আলো ফুটতেই বনবিহার প্রাঙ্গণে ভক্তদের আগমন শুরু হয়। দিন বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে নারী-পুরুষ, কিশোর-কিশোরী ও প্রবীণদের অংশগ্রহণে পুরো এলাকা পরিণত হয় এক পবিত্র মিলনমেলায়।

ধর্মপ্রাণ ভক্তরা ফুল, ফল ও নৈবেদ্য অর্পণের মাধ্যমে বুদ্ধের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেন এবং বিভিন্ন ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানে সক্রিয়ভাবে অংশ নেন।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন শ্রদ্ধেয় শ্রীমৎ মহাকপ্পিন মহাস্থবির, জীবতলী শান্তিপুর বনবিহার। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন শ্রদ্ধেয় শ্রীমৎ তাপস ভিক্ষু, অধ্যক্ষ কালামোড়ো ধর্মছদক বনবিহার; শ্রদ্ধেয় শ্রীমৎ শান্তদীপ্ত ভিক্ষু, অধ্যক্ষ তুষিতপুর বনবিহার এবং শ্রদ্ধেয় শ্রীমৎ আর্থ্যসন্দ ভিক্ষু, অধ্যক্ষ পশ্চিম লাইল্ল্যাঘোনা জনকল্যাণ বনবিহার। এছাড়াও বিভিন্ন এলাকা থেকে আগত ভিক্ষু সংঘের সম্মিলিত উপস্থিতি অনুষ্ঠানকে আরও তাৎপর্যপূর্ণ করে তোলে।

অনুষ্ঠানের শুরুতে বুদ্ধ বন্দনা, ত্রিশরণ গ্রহণ ও পঞ্চশীল পালনের মধ্য দিয়ে ধর্মীয় কার্যক্রমের সূচনা করা হয়। পরে সংঘদান, ধর্মদেশনা, সূত্রপাঠ ও বিশেষ প্রার্থনা অনুষ্ঠিত হয়।

ধর্মদেশনায় ভিক্ষুগণ ভগবান বুদ্ধের করুণা, মৈত্রী, অহিংসা ও মানবকল্যাণের বাণী তুলে ধরে বর্তমান সমাজে শান্তি ও সম্প্রীতি প্রতিষ্ঠায় এসব শিক্ষার গুরুত্বের ওপর আলোকপাত করেন।
বক্তারা উল্লেখ করেন, বুদ্ধ পূর্ণিমা শুধুমাত্র একটি ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতা নয়, বরং আত্মশুদ্ধি, নৈতিক উন্নয়ন এবং মানবিক মূল্যবোধ চর্চার একটি গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ। তারা সমাজে হিংসা, বিদ্বেষ ও অসহিষ্ণুতা পরিহার করে পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ ও সহনশীলতা গড়ে তোলার আহ্বান জানান।

অনুষ্ঠানে শিশু-কিশোরদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ ছিল লক্ষণীয়, যা নতুন প্রজন্মের মাঝে ধর্মীয় ও নৈতিক মূল্যবোধ বিকাশে ইতিবাচক ভূমিকা রাখছে বলে মত দেন আয়োজকরা।

আয়োজকরা জানান, প্রতিবছরের ধারাবাহিকতায় এবারও শান্তিপূর্ণ ও সুশৃঙ্খল পরিবেশে অনুষ্ঠানটি সম্পন্ন হয়েছে। ভবিষ্যতেও এ ধরনের ধর্মীয় আয়োজন অব্যাহত থাকবে বলে তারা আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

সার্বিকভাবে, ভক্তদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ, গভীর ধর্মীয় আবহ এবং ভিক্ষু সংঘের উপস্থিতিতে বাঘাইছড়ির জীবতলী শান্তিপুর বনবিহারের এবারের বুদ্ধ পূর্ণিমা উদযাপন স্থানীয় বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের মাঝে নতুন উদ্দীপনা ও উৎসাহের সঞ্চার করেছে।