রোববার (২৩ আগস্ট) দুপুরে লালমনিরহাটের দায়রা জজ মো. হায়দার আলী এ রায় ঘোষণা করেন। মামলাটি বিচারের জন্য দায়রা আদালতে স্থানান্তরের পর মাত্র ছয় কার্যদিবসের মধ্যে এ রায় ঘোষণা করা হয়।
আদালতের নথিসূত্রে জানা গেছে, নিহত নন্দিনী রায়ের বাবা নলনী মোহন বর্মন ২০২৬ সালের ১৬ জুন আদিতমারী থানায় তিনজনকে আসামি করে হত্যা মামলা দায়ের করেন। এজাহারে উল্লেখ করা হয়, ১৫ জুন বিকেল ৩টা থেকে ১৬ জুন ভোর ৬টার মধ্যে যেকোনো সময়ে আসামিরা পূর্বপরিকল্পিতভাবে নন্দিনীকে হত্যা করে লাশ গুমের উদ্দেশ্যে একই গ্রামের জাবেদ আলীর ভুট্টাক্ষেতে পুঁতে রাখেন।
মামলাটি রুজুর পর তদন্তের দায়িত্ব পান উপপরিদর্শক (এসআই) আবু সাঈদ মো. আইয়ুব তুহিন। তদন্তকালে আসামিদের গ্রেপ্তার করা হলে প্রধান আসামি বিধান চন্দ্র ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ভুট্টাক্ষেত থেকে নন্দিনীর লাশ উদ্ধার এবং একটি কোদালসহ অন্যান্য আলামত জব্দ করা হয়। তদন্ত শেষে পুলিশ আসামিদের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ৩০২, ৪০৪, ২০১ ও ৩৪ ধারায় আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করে। গত ১৩ আগস্ট মামলাটি বিচারের জন্য লালমনিরহাটের দায়রা আদালতে এলে একই দিনে আদালত অভিযোগ আমলে নেন। ১৬ আগস্ট আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করা হয়। এরপর ১৭, ১৮ ও ১৯ আগস্ট মোট ২৩ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণ করা হয়। ২০ আগস্ট আসামিদের ফৌজদারি কার্যবিধির ৩৪২ ধারায় পরীক্ষা এবং উভয় পক্ষের যুক্তিতর্ক শুনানি শেষে ২৩ আগস্ট রায়ের দিন ধার্য করা হয়।
রায়ে আদালত প্রধান আসামি বিধান চন্দ্রকে দণ্ডবিধির ৩০২ ধারায় দোষী সাব্যস্ত করে মৃত্যুদণ্ড এবং ২০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড দেন। অর্থদণ্ড অনাদায়ে তাকে আরো ছয় মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে। একই সঙ্গে দণ্ডবিধির ৪০৪ ধারায় তাকে তিন বছরের সশ্রম কারাদণ্ড ও পাঁচ হাজার টাকা অর্থদণ্ড, অনাদায়ে আরো এক মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়। এই দুটি সাজা যুগপৎভাবে কার্যকর হবে।
আসামি রনজিৎ কুমার রায় ও মমতা রানীকে দণ্ডবিধির ২০১/৩৪ ধারায় পাঁচ বছর করে সশ্রম কারাদণ্ড এবং পাঁচ হাজার টাকা করে অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে। অর্থদণ্ড অনাদায়ে প্রত্যেককে আরো তিন মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে।
রায়ে আরো উল্লেখ করা হয়, মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত বিধান চন্দ্র চাইলে রায়ের তারিখ থেকে সাত দিনের মধ্যে হাইকোর্ট বিভাগে আপিল করতে পারবেন। এ ছাড়া ফৌজদারি কার্যবিধির ৩৭৪ ধারার বিধান অনুযায়ী হাইকোর্ট বিভাগের অনুমোদন সাপেক্ষে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হবে।
রায় ঘোষণার পর তিন আসামিকেই সাজা পরোয়ানামূলে লালমনিরহাট জেলা কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়। বিচারে আসামিদের হাজতবাসের সময়সীমা কারাদণ্ডের মেয়াদ থেকে বাদ যাবে বলেও রায়ে উল্লেখ করা হয়েছে।