জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, নদ-নদী ও জলাশয়ে অবৈধ জালের ব্যবহার বন্ধে এবং বেচাকেনা, সংরক্ষণ ও মজুদ প্রতিরোধে এই অভিযান চালানো হয়। দিনভর পরিচালিত এই বিশেষ অভিযানে সমগ্র জেলা থেকে প্রায় ১৭৪টি রিং জাল (চায়না দুয়ারি) এবং ৫২ পিস অবৈধ কারেন্ট জাল জব্দ করা হয়। পরবর্তীতে জব্দকৃত এসব ক্ষতিকারক জাল সাধারণ মানুষের উপস্থিতিতে আগুনে পুড়িয়ে পুরোপুরি ভস্মীভূত করা হয়।
এছাড়া মৎস্য সুরক্ষা ও সংরক্ষণ আইন অমান্য করে অবৈধ কারেন্ট জাল দিয়ে মাছ ধরার অপরাধে জড়িত একাধিক ব্যক্তিকে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে তাৎক্ষণিক অর্থদণ্ড বা জরিমানা আরোপ করা হয়।
মৎস্য সম্পদ রক্ষায় জেলা প্রশাসনের এই দৃঢ় অবস্থানের কথা পুনর্ব্যক্ত করে কুড়িগ্রামের জেলা প্রশাসক অন্নপূর্ণা দেবনাথ বলেন-"কারেন্ট জাল এবং চায়না দুয়ারির মতো ধ্বংসাত্মক জাল আমাদের নদ-নদীর দেশীয় মাছের রেণু ও প্রজননক্ষম মাছ একবারে নিধন করে ফেলছে। মৎস্য সম্পদ রক্ষা করা আমাদের জাতীয় দায়িত্ব। আজ সব উপজেলায় একযোগে এই বার্তা দেওয়া হয়েছে যে, অবৈধ জালের ব্যবহার বা ব্যবসার ব্যাপারে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না। জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে এই অভিযান নিয়মিত ও অব্যাহত থাকবে।"
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও), সহকারী কমিশনার (ভূমি) এবং উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তাদের সমন্বয়ে গঠিত পৃথক ভ্রাম্যমাণ আদালত টিম স্থানীয় থানা পুলিশের সহযোগিতায় নিজ নিজ উপজেলায় এসব অভিযান পরিচালনা করে। জেলা প্রশাসন থেকে জানানো হয়েছে, ভবিষ্যৎ প্রজনন নিশ্চিত ও মৎস্য উৎপাদন বৃদ্ধির লক্ষ্যে অবৈধ জালের ব্যবহার শূন্যের কোঠায় নামিয়ে না আনা পর্যন্ত এ ধরনের তদারকি চালু থাকবে।