পরিবারের সদস্যদের অভিযোগ, গত সোমবার (৪ আগস্ট) দুপুর আনুমানিক ১টার দিকে বরমচাল ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের নন্দনগর (খাদিমপাড়া) গ্রামের বাসিন্দা মো. বাতির মিয়া তার ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ‘হাসান ভেরাইটিজ’-এ অবস্থান করছিলেন। এ সময় একই এলাকার হাসেম মিয়া ও তার ছেলে হাসিব আহমেদ সেখানে এসে চুরির বিষয়ে কথা বলার একপর্যায়ে তার ওপর হামলা চালান।
বাতির মিয়ার মেয়েরা নিপা বেগম ও ফাতেমা আক্তার (লুসি) ভাষ্য অনুযায়ী, শাহকালা মাজারের সামনে দীর্ঘদিন ধরে ব্যবসা পরিচালনা করে আসছেন বাতির মিয়া। কয়েকদিন আগে তার দোকান থেকে দুই দফায় দুটি মোবাইল ফোন ও বিভিন্ন মালামাল চুরি হয়। পরে এ ঘটনায় কুলাউড়া থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়। পরিবারের দাবি, পরে হাসিব চুরির ঘটনায় নিজের সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করলে স্থানীয়ভাবে বিষয়টি মীমাংসা করা হয় এবং ভবিষ্যতে এমন কাজ করবে না বলে আশ্বাস দেওয়া হয়।
তাদের আরও অভিযোগ, গত ৩ আগস্ট পুনরায় দোকান থেকে এক ক্যারেট (২৪ পিস) কোমল পানীয়সহ বিভিন্ন মালামাল চুরি হয়। এ বিষয়ে কথা বলার জন্য হাসিব ও তার বাবা হাসেম মিয়াকে দোকানে ডাকা হলে কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে তারা ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন। অভিযোগ রয়েছে, হাসেম মিয়া দোকানে থাকা একটি বেঞ্চ তুলে বাতির মিয়ার মাথায় আঘাত করেন। পরে বাবা-ছেলে মিলে তার শরীরের বিভিন্ন স্থানে এলোপাতাড়ি মারধর করেন।
চিৎকার শুনে স্বজন ও স্থানীয়রা ঘটনাস্থলে এসে গুরুতর আহত অবস্থায় বাতির মিয়াকে উদ্ধার করে প্রথমে কুলাউড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে অবস্থার অবনতি হওয়ায় কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার করেন। বর্তমানে তিনি সেখানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী ময়জুল ইসলাম বলেন, চুরির বিষয় নিয়ে কথা বলার সময় হঠাৎ করেই হাসেম মিয়া বাতির মিয়ার ওপর হামলা চালান। তিনি দাবি করেন, হাসিবের বিরুদ্ধে এর আগেও চুরি ও বিভিন্ন অপরাধের অভিযোগ রয়েছে এবং স্থানীয়দের কেউ কেউ তাকে কিশোর গ্যাংয়ের সঙ্গে সম্পৃক্ত বলেও অভিযোগ করেন।
বরমচাল ইউনিয়ন পরিষদের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য মোহাম্মদ সাজাদ আলী সাজু বলেন, "আমি ইউনিয়ন পরিষদে ছিলাম। পরে শুনি বাতির মিয়ার ওপর হামলার ঘটনা ঘটেছে। এর আগে তিনি আমাকে চুরির বিষয়ে জানিয়েছিলেন। শুনেছি, আগের ঘটনায় হাসিব চুরির কথা স্বীকার করে স্থানীয়ভাবে মীমাংসাও হয়েছিল। নতুন করে চুরির বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করতে গেলে হামলার ঘটনা ঘটে বলে জানতে পেরেছি।"
তিনি ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানান।
অভিযুক্ত হাসেম মিয়ার স্থায়ী বাড়ি চট্টগ্রামে হলেও বর্তমানে তিনি নন্দনগর (খাদিমপাড়া) এলাকায় নানার বাড়িতে বসবাস করছেন।
এ বিষয়ে পরিবার জানিয়েছে, তারা ইতোমধ্যে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া শুরু করেছেন এবং হামলার সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।