বুধবার (১৫ এপ্রিল) বিকেল ৫টার দিকে উপজেলার বিশালপুর ইউনিয়নের রানীরহাট বাজারে এই অভিযান পরিচালনা করেন শেরপুর উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মাহমুদুল হাসান। এ সময় মেসার্স বিমল ট্রেডার্সের মালিক স্বপন চন্দ্র মন্ডলকে ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।
প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীর লাইসেন্স অনুযায়ী ৫ হাজার লিটার ডিজেল মজুতের অনুমতি থাকলেও তিনি প্রায় ৯ হাজার লিটার ডিজেল সংগ্রহ করেন। এর মধ্যে একটি বড় অংশ—প্রায় আড়াই হাজার লিটার—গোপনে মজুত রেখে বাজারে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি এবং অধিক দামে বিক্রির অভিযোগ উঠে।
অভিযান শেষে জব্দকৃত ডিজেল তাৎক্ষণিকভাবে কৃষকদের মাঝে সরকার নির্ধারিত মূল্যে বিক্রি করা হয়। এতে দীর্ঘদিন ধরে সেচ কার্যক্রমে ভোগান্তিতে থাকা স্থানীয় কৃষকদের মধ্যে স্বস্তি ফিরে আসে।
স্থানীয় কৃষকরা জানান, তেলের সংকটের কারণে জমিতে সেচ দেওয়া কঠিন হয়ে পড়েছিল। অভিযানের পর ন্যায্যমূল্যে ডিজেল পাওয়ায় তারা আবারও স্বাভাবিক কৃষিকাজে ফিরতে পারছেন।
এ বিষয়ে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মাহমুদুল হাসান বলেন, “গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পরিচালিত অভিযানে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেছে। পেট্রোলিয়াম আইনে জরিমানা করা হয়েছে এবং জব্দ তেল কৃষকদের মাঝে বিক্রি করা হয়েছে। ভবিষ্যতেও এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।”
এই অভিযানের মাধ্যমে শুধু অবৈধ মজুতদারির বিরুদ্ধে প্রশাসনের কঠোর অবস্থানই প্রকাশ পায়নি, বরং কৃষকদের স্বার্থ রক্ষায় তাৎক্ষণিক কার্যকর পদক্ষেপেরও একটি বাস্তব উদাহরণ তৈরি হয়েছে। বাজারে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টিকারীদের বিরুদ্ধে এমন অভিযান অব্যাহত থাকলে কৃষি উৎপাদন স্বাভাবিক রাখা সহজ হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।