ঘটনাটি শুধু অবৈধ মজুতেরই নয়, বরং কৌশলী প্রতারণারও একটি স্পষ্ট উদাহরণ বলে মনে করছে প্রশাসন।
অভিযান ও উদ্ধার
বুধবার (১৫ এপ্রিল) রাত ৮টা থেকে ১০টা পর্যন্ত উপজেলার দক্ষিণ হিন্দুকান্দি এলাকার টিপুর মোড় সংলগ্ন ‘লোপা এন্টারপ্রাইজ’ নামের একটি ডিলার গুদামে যৌথ অভিযান চালায় উপজেলা প্রশাসন ও পুলিশ।
অভিযানে নেতৃত্ব দেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সুমাইয়া ফেরদৌস।
প্রশাসন সূত্র জানায়, গুদামটিতে কয়েকটি ড্রামে সংরক্ষিত ডিজেলের পাশাপাশি একটি তেলের লরির ট্যাংকিতেও বিপুল পরিমাণ তেল পাওয়া যায়। সব মিলিয়ে আনুমানিক ৪ হাজার লিটার ডিজেল জব্দ করা হয়।
ডিলার অনুপস্থিত, গুদাম সিলগালা
অভিযানের সময় গুদাম মালিক লোকমান হাকিম ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন না। পরে ভ্রাম্যমাণ আদালতের নির্দেশে গুদাম ও দোকানঘর সিলগালা করা হয়। এতে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, বিষয়টি পরিকল্পিতভাবে আড়াল করার চেষ্টা করা হয়েছিল।
মালিকের ব্যাখ্যা
গুদামের স্বত্বাধিকারী লোকমান হাকিম দাবি করেন, তার চরের মধ্যে চলমান নির্মাণকাজের জন্যই এই ডিজেল মজুত রাখা হয়েছিল। তবে প্রশাসন তার এই ব্যাখ্যাকে যাচাই-বাছাইয়ের আওতায় এনেছে।
কৃষকদের জন্য বিক্রির সিদ্ধান্ত
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সুমাইয়া ফেরদৌস জানান, জব্দকৃত ডিজেল বৃহস্পতিবার সকাল ৯টা থেকে সারিয়াকান্দির টিপুর মোড় এলাকায় সরকারি নির্ধারিত মূল্যে কৃষকদের কাছে বিক্রি করা হবে। বিক্রয়লব্ধ অর্থ সরকারি কোষাগারে জমা দেওয়া হবে।
এই উদ্যোগকে স্থানীয় কৃষকদের জন্য তাৎক্ষণিক স্বস্তি হিসেবে দেখা হচ্ছে, বিশেষ করে চলতি মৌসুমে সেচ কার্যক্রমে জ্বালানির চাহিদা বেশি থাকায়।
কঠোর বার্তা প্রশাসনের
প্রশাসনের পক্ষ থেকে স্পষ্ট করে জানানো হয়েছে, জ্বালানি তেলের অবৈধ মজুত ও কালোবাজারি রোধে এ ধরনের অভিযান নিয়মিত চালানো হবে। অভিযানে সারিয়াকান্দি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আ. ফ. আসাদুজ্জামানসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
সংকটের সুযোগে কারসাজি?
বিশেষজ্ঞদের মতে, জ্বালানি সংকট বা সরবরাহে অস্থিরতার সময় কিছু অসাধু ব্যবসায়ী কৃত্রিম সংকট তৈরি করে অতিরিক্ত লাভের চেষ্টা করে। “তেল নেই” লেখা গুদামে বিপুল মজুতের ঘটনা সেই প্রবণতারই ইঙ্গিত দেয়।
সারিয়াকান্দির এই ঘটনা শুধু একটি অভিযানের খবর নয়—এটি বাজার ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা, নজরদারি এবং জবাবদিহিতার গুরুত্বের একটি বাস্তব উদাহরণ। প্রশাসনের এমন সক্রিয় পদক্ষেপ অব্যাহত থাকলে জ্বালানি খাতে অনিয়ম অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে আসবে বলে আশা করা যায়।