প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, ‘ভেসেল ইনফরমেশন ডিক্লারেশন’ নামে একটি নথির মাধ্যমে প্রণালী অতিক্রমকারী সব জাহাজকে এখন থেকে নির্দিষ্ট ফর্ম পূরণ করে অনুমতি নিতে হবে। এতে জাহাজের নাম, পরিচয় নম্বর, মালিকানা, ক্রুদের জাতীয়তা এবং পরিবহনকৃত পণ্যের বিস্তারিত তথ্য দিতে হবে।
সিএনএন জানায়, ওই ফর্মে মোট ৪০টির বেশি প্রশ্নের উত্তর দিতে হবে এবং তথ্য অসম্পূর্ণ বা ভুল হলে তার দায়ভার জাহাজ কর্তৃপক্ষকেই বহন করতে হবে বলে সতর্ক করা হয়েছে।
নতুন নিয়মে বলা হয়েছে, হরমুজ প্রণালী দিয়ে চলাচলের আগে ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসের (আইআরজিসি) নৌবাহিনীর অনুমতি নেওয়া বাধ্যতামূলক হতে পারে। অনুমতি ছাড়া কোনো জাহাজ চলাচল করলে ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারিও দেওয়া হয়েছে।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, ইরান এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথকে অর্থনৈতিকভাবে ব্যবহার করার পরিকল্পনা করছে। প্রতিটি জাহাজ থেকে প্রায় ২০ লাখ ডলার পর্যন্ত পারাপার ফি দাবি করা হতে পারে বলেও অভিযোগ উঠেছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ট্রেজারি বিভাগ জানিয়েছে, এ ধরনের অর্থ প্রদান বা লেনদেন মার্কিন ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের জন্য নিষিদ্ধ এবং তা করলে নিষেধাজ্ঞার আওতায় পড়তে পারে।
বিশ্লেষকদের মতে, ইরানের এই পদক্ষেপ আন্তর্জাতিক সমুদ্র বাণিজ্যে নতুন উত্তেজনা তৈরি করতে পারে এবং হরমুজ প্রণালীকে ঘিরে বৈশ্বিক কূটনৈতিক চাপ আরও বাড়তে পারে। বর্তমানে ভারত ও পাকিস্তানসহ কয়েকটি দেশ এ বিষয়ে ইরানের সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে বলে জানা গেছে।