বড় কোনো প্রতিযোগিতামূলক ম্যাচের জন্য দীর্ঘ অপেক্ষা করতে হবে না- জাতীয় দলের প্রীতি ম্যাচ খেলেই নিজেদের নিষেধাজ্ঞার মেয়াদ শেষ করতে পারবেন তারা।
২০২৬ বিশ্বকাপের ফাইনালের রেশ যে ট্রফি নির্ধারণের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকছে না, তা এখন স্পষ্ট। গত ১৯ জুলাই নিউইয়র্ক-নিউ জার্সি স্টেডিয়ামে অতিরিক্ত সময়ে স্পেনের কাছে হেরে শিরোপা হারায় আর্জেন্টিনা। ম্যাচ শেষে দুই দলের খেলোয়াড়দের মধ্যে উত্তেজনা ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।
ওই ঘটনার তদন্ত শেষে ফিফা পারেদেসকে ১০ ম্যাচ, মোলিনাকে ৭ ম্যাচ এবং আলমাদাকে ১ ম্যাচের নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে। পাশাপাশি পারেদেস ও মোলিনাকে ৯০ হাজার ডলার করে এবং আলমাদাকে ৩০ হাজার ডলার জরিমানা করা হয়েছে।
কাগজে-কলমে শাস্তির অঙ্ক নিঃসন্দেহে বড়। বিশেষ করে পারেদেসের ১০ ম্যাচের নিষেধাজ্ঞা আর্জেন্টিনার জন্য বড় ধাক্কা বলেই মনে হতে পারে। তবে এখানেই রয়েছে গুরুত্বপূর্ণ একটি নিয়ম।
ফিফার ডিসিপ্লিনারি কোড অনুযায়ী, জাতীয় দলের ম্যাচে পাওয়া নিষেধাজ্ঞা সংশ্লিষ্ট দলের পরবর্তী ম্যাচগুলোতে কার্যকর হয়। অর্থাৎ শাস্তি শুধু বিশ্বকাপ, কোপা আমেরিকা কিংবা অন্য কোনো প্রতিযোগিতামূলক ম্যাচে ভোগ করতে হবে—এমন কোনো বাধ্যবাধকতা নেই।
প্রীতি ম্যাচেই শেষ হবে নিষেধাজ্ঞা
এই নিয়মই আর্জেন্টিনার তিন খেলোয়াড়ের জন্য স্বস্তির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। আসন্ন আন্তর্জাতিক সূচিতে থাকা প্রীতি ম্যাচগুলোতেই পারেদেস, মোলিনা ও আলমাদা নিজেদের নিষেধাজ্ঞার ম্যাচগুলো পূরণ করতে পারবেন।
ফলে বড় কোনো টুর্নামেন্টে তাদের অনুপস্থিত থাকার ঝুঁকি অনেকটাই কমে গেছে।
পারেদেসের ১০ ম্যাচের নিষেধাজ্ঞা অবশ্য ১০ ম্যাচই থাকছে, কমছে না। কিন্তু সেই ১০ ম্যাচ যদি প্রতিযোগিতামূলক ম্যাচের বদলে প্রীতি ম্যাচে শেষ করা যায়, তাহলে শাস্তির বাস্তব প্রভাব অনেকটাই কমে যাবে। একই সুবিধা পাবেন মোলিনাও। আর এক ম্যাচের নিষেধাজ্ঞা পাওয়া আলমাদার ক্ষেত্রে বিষয়টি আরও সহজ।
শাস্তি পেয়েছেন স্পেনের গাভিও
ফাইনালের উত্তপ্ত ঘটনার দায় শুধু আর্জেন্টিনার খেলোয়াড়দের ওপরই পড়েনি। স্পেনের পাবলো গাভিকেও এক ম্যাচের নিষেধাজ্ঞা ও ৩০ হাজার ডলার জরিমানা করেছে ফিফা।
এ ছাড়া আর্জেন্টিনার সহকারী কোচ রবার্তো আয়ালাকে দেওয়া হয়েছে তিন ম্যাচের নিষেধাজ্ঞা এবং ৩০ হাজার ডলার জরিমানা।
বিশ্বকাপের বিভিন্ন ঘটনার জন্য আর্জেন্টিনা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনকেও মোট ৩ লাখ ২১ হাজার ডলার জরিমানা করেছে ফিফা। এর মধ্যে ১ লাখ ডলার বৈষম্যবিরোধী কর্মসূচিতে বিনিয়োগের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
পাশাপাশি আর্জেন্টিনার পরবর্তী দুটি ঘরের ম্যাচে দর্শকসংখ্যা ৫০ শতাংশে সীমিত রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তবে এর একটি ম্যাচ এবং ১ লাখ ডলারের জরিমানার একটি অংশ পরীক্ষামূলক সময়ের জন্য স্থগিত রাখা হয়েছে।
শাস্তি আছে, বড় ম্যাচে ফেরার পথও খোলা
বিশ্বকাপ ফাইনালের উত্তপ্ত মুহূর্তের মাশুল পারেদেস, মোলিনা ও আলমাদাকে দিতে হচ্ছে ঠিকই। তবে বড় মঞ্চে তাদের ফেরার দরজা বন্ধ হচ্ছে না।
ফুটবলে নিষেধাজ্ঞার ক্ষেত্রে শুধু শাস্তির সংখ্যা নয়, সেটি কখন কার্যকর হচ্ছে—সেটিও গুরুত্বপূর্ণ। পারেদেসের ১০ ম্যাচের নিষেধাজ্ঞা তাই কাগজে বড় শাস্তি হলেও, প্রীতি ম্যাচে এর বড় অংশ শেষ হয়ে গেলে আর্জেন্টিনার প্রতিযোগিতামূলক ফুটবলে এর প্রভাব তুলনামূলক কমই হবে।
ফিফার সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিলের সুযোগও রয়েছে। ফলে বিশ্বকাপ ফাইনালের সেই উত্তপ্ত ঘটনার আইনি অধ্যায় এখনো পুরোপুরি শেষ হয়নি।
তবে আপাতত আর্জেন্টিনার জন্য স্বস্তির বার্তাটি পরিষ্কার—শাস্তি বাতিল হয়নি, কমেওনি; শুধু শাস্তি ভোগ করার পথটা হয়েছে তুলনামূলক সহজ।