প্রসিধের সামর্থ্য নিয়ে আগেও দ্বিধা ছিল না জানিয়ে মরকেল বলছেন, ‘দল ও ম্যানেজমেন্ট হিসেবে আমরা সবসময়ই তার সামর্থ্য সম্পর্কে জানতাম। তার জন্য বিষয়টি ছিল বাইরের কণ্ঠগুলোকে স্তব্ধ করে শুধু ক্রিকেটে মনোযোগ দেওয়া।’ প্রসিধ এখন বাইরের সমালোচনা উপেক্ষা করে নিজের খেলায় আস্থা রাখতে শিখেছেন বলেও জানান ভারতীয় এই কোচ।
তিনি বলেন, ‘সবচেয়ে বড় পরিবর্তন হলো, সব চিন্তা ও মন্তব্য থেকে সে নিজেকে মুক্ত করেছে। এখন সে ক্রিকেট উপভোগ করছে এবং বোলিং করতে ভালোবাসছে। ফলাফলই তার প্রমাণ। সে ভীষণ পরিশ্রমী একজন খেলোয়াড়। ম্যাচের আগে প্রতিপক্ষ নিয়ে অনেক হোমওয়ার্ক ও প্রচুর গবেষণা করে। আমার কাছে সে ক্রিকেটের দারুণ এক শিক্ষার্থী। তাকে বেড়ে উঠতে এবং বিশ্বমানের বোলারে পরিণত হতে দেখা সত্যিই দারুণ। সব সংস্করণেই ভারতের হয়ে দীর্ঘ সময় খেলার মতো সামর্থ্য ও প্রতিভা রয়েছে তার।’
প্রসিধের বাউন্সার ব্যবহারের ভূমিকাও অনেক সময় দলের পরিকল্পনার অংশ বলে জানিয়েছেন মরকেল। সমালোচনা সত্ত্বেও কঠিন এই দায়িত্ব গ্রহণ করে ধীরে ধীরে নিজেকে আরও পরিপূর্ণ বোলার হিসেবে গড়ে তোলার জন্য শিষ্যের প্রশংসাও করেছেন তিনি, ‘প্রসিদ্ধের বাড়তি গতি আছে। তার বাউন্সও আমাদের জন্য বাড়তি অস্ত্র। কিছু নির্দিষ্ট সময়ে আমরা তাকে এমনভাবে ব্যবহার করব, যেখানে ঝুঁকি থাকবে। তবে সেখান থেকে পুরস্কারও পাওয়ার সুযোগ থাকবে। কাজটা তার জন্য কঠিন।’
কয়েক বছর ধরেই প্রসিধ গাধার মতো দলের জন্য খেটে চলেছে বলে জানান দক্ষিণ আফ্রিকার সাবেক পেসার মরকেল, ‘কখনও কখনও এটা কঠিন কাজ, অনেকটা “গাধার কাজের” মতো। তবে গত দুই-তিন বছরে সে আমাদের হয়ে কাজটি খুব ভালোভাবে করেছে। একইসঙ্গে তার খেলাও উন্নত হয়েছে। এখন সে অনেক বেশি ধারাবাহিকভাবে ফুলার লেন্থে বল করতে পারে। যা দেখতে দারুণ লাগে।’
কলম্বোর তুলনামূলক নিষ্প্রাণ উইকেটে ৮ উইকেট নিতে ভারতীয় বোলারদের কঠিন পরিশ্রম করতে হয়েছে। মরকেলের মতে, ‘আমরা সবসময় বোলিং পার্টনারশিপের কথা বলি। চাপ তৈরির কথা বলি। আজকের মতো দিনে, যখন একটি ব্যাটিং জুটি ক্রিজে জমে যায়, তখনই এসব শেখা যায়। মূল বিষয় হলো, কীভাবে সেই জুটি ভাঙা যায়। এরপর নতুন ব্যাটার আসার পর প্রথম ১০ বা ১৫ বল কীভাবে করবেন, সেটাও গুরুত্বপূর্ণ। দলে আসা তরুণরা এমন অভিজ্ঞতা থেকেই শিখবে।’