নিহত চোংথাম বিক্রম সিং মণিপুরের বাসিন্দা ও ব্যক্তিগত সংগীত শিক্ষক ছিলেন। রোববার গভীর রাতে দক্ষিণ-পূর্ব দিল্লির কিলোকরি গ্রামে তার ওপর হামলা হয়।
পুলিশ জানায়, রাত সাড়ে ১১টার দিকে কয়েকটি খাবারের দোকানে কর্মরত একদল ব্যক্তি তার আবাসিক ভবনের বাইরে হৈচৈ করছিলেন। শব্দ কমাতে বলায় তাদের সঙ্গে সিংয়ের কথাকাটাকাটি হয় বলে অভিযোগ।
একপর্যায়ে সিং নিজের অ্যাপার্টমেন্টে ফিরে যাওয়ার চেষ্টা করলে ওই ব্যক্তিরা তাকে ধাওয়া করে করিডোরে মারধর করেন বলে অভিযোগ। পরে তার ছেলে তাকে হলি ফ্যামিলি হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে সোমবার সকাল ৭টার দিকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
এনডিটিভির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মেইতেই সম্প্রদায়ের সদস্য সিং কয়েক বছর ধরে কিলোকরিতে বসবাস করছিলেন। হামলার ঘটনায় সাতজনকে গ্রেপ্তার এবং একজন অপ্রাপ্তবয়স্ককে আটক করেছে পুলিশ। গ্রেপ্তাররা বিভিন্ন ধাবা ও খাবারের দোকানে কাজ করেন।
ঘটনার নিন্দা জানিয়ে দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ের নর্থ ইস্ট স্টুডেন্টস সোসাইটি দ্রুত ও নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছে। মণিপুরের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী এন. বিরেন সিংও দিল্লি পুলিশকে ঘটনার পুঙ্খানুপুঙ্খ তদন্ত করে সিংয়ের পরিবারের জন্য ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছেন।
সোমবার সন্ধ্যায় কিলোকরিতে প্রায় ১০০ মানুষ মোমবাতি মিছিল করে হত্যার বিচার দাবি করেন।
সিংয়ের স্ত্রী জোশনা চোংথাম বলেন, পরিবার প্রতিশোধ নয়, জবাবদিহি চায়। তিনি সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের পাশাপাশি পরিবারের ব্যক্তিগত গোপনীয়তার প্রতি সম্মান দেখানোর আহ্বান জানান।
এদিকে, ভারতের বিরোধী দলীয় নেতা রাহুল গান্ধীও হত্যাকাণ্ডের নিন্দা করেছেন। তিনি বলেন, বাড়ির বাইরে শব্দ কমাতে বলার পর সিংকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে। একই সঙ্গে দিল্লিতে উত্তর-পূর্বাঞ্চলের মানুষ কতটা নিরাপদ—সে প্রশ্ন তুলে দোষীদের দ্রুত বিচারের আওতায় আনার দাবি জানান।
পুলিশ জানিয়েছে, হামলা ও সিংয়ের মৃত্যুর সঙ্গে জড়িত পরিস্থিতি নিয়ে তদন্ত চলছে।