মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) সকাল ১১টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত গোপন সংবাদের ভিত্তিতে শহরের শেরেবাংলা নগর এলাকার চৌধুরী ফার্মেসিতে অভিযান পরিচালনা করে জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর, বগুড়া জেলা কার্যালয়। অভিযানে নেতৃত্ব দেন সহকারী পরিচালক মো. মেহেদী হাসান।
অভিযানে জানা যায়, মো. মহিদুর রহমান চৌধুরী (রুমন) ও মো. মতিউর রহমান চৌধুরী (রুম্মান) নামের দুই ভাই কেবল ডিএমএফ (Diploma in Medical Faculty) কোর্স সম্পন্ন করলেও দীর্ঘদিন ধরে নামের আগে অবৈধভাবে ‘ডাক্তার’ পদবি ব্যবহার করে চিকিৎসাসেবা দিয়ে আসছিলেন। স্থানীয়দের কাছেও তাঁরা চিকিৎসক হিসেবে পরিচিত ছিলেন। এতে প্রকৃত চিকিৎসক ভেবে অনেক রোগী তাঁদের কাছে চিকিৎসা নিয়েছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
তদন্তে আরও দেখা যায়, তাঁদের চেম্বারে বিপুল পরিমাণ মেয়াদোত্তীর্ণ জীবনরক্ষাকারী ওষুধ সংরক্ষণ করা হয়েছিল, যা রোগীদের স্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ। পরে এসব ওষুধ জব্দ করা হয়।
অভিযান চলাকালে অভিযুক্তরা অনিয়ম ও প্রতারণার বিষয়টি স্বীকার করলে ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ আইন অনুযায়ী চৌধুরী ফার্মেসিকে ৪০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। পাশাপাশি ভবিষ্যতে এ ধরনের প্রতারণামূলক কার্যক্রমে জড়াবেন না—এ মর্মে তাঁদের কাছ থেকে মুচলেকাও নেওয়া হয়।
অভিযানে র্যাব-১২ এবং বগুড়া জেলা পুলিশের সদস্যরা আইনশৃঙ্খলা ও সার্বিক সহযোগিতা প্রদান করেন।
জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর জানিয়েছে, জনস্বার্থে ভুয়া চিকিৎসক, প্রতারক ও স্বাস্থ্যসেবার নামে অনিয়মকারীদের বিরুদ্ধে এ ধরনের অভিযান ভবিষ্যতেও আরও জোরদারভাবে চলবে।