সোমবার (১২ অক্টোবর) বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে বগুড়া আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের (এপিবিএন) সামনে এ ঘটনা ঘটে। আহত শিক্ষকের নাম রায়হান ইসলাম। তিনি বগুড়া বিয়াম মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজের শরীরচর্চা বিভাগের শিক্ষক। অভিযুক্ত শিক্ষার্থীর নাম রিয়াদ ইসলাম কিরন। সে ওই প্রতিষ্ঠানের সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল।
বিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, সোমবার বিকেলে বিদ্যালয়ের ছুটি শেষে মোটরসাইকেলে বাড়ি ফিরছিলেন শিক্ষক রায়হান ইসলাম। পথে এপিবিএনের সামনে পৌঁছালে গাছের ডাল হাতে দাঁড়িয়ে থাকা শিক্ষার্থী কিরন তাঁকে থামতে বলে। শিক্ষক মোটরসাইকেল থামানোর পরই কোনো কিছু বুঝে ওঠার আগেই গাছের ডাল দিয়ে তাঁর মুখ ও ঘাড়ে এলোপাতাড়ি আঘাত করে পালিয়ে যায় ওই শিক্ষার্থী।
হামলায় শিক্ষকের থুতনি ফেটে রক্তাক্ত জখম হয়। পরে তাঁকে চিকিৎসা নিতে হয় এবং থুতনিতে আটটি সেলাই দেওয়া হয়। এ ছাড়া তাঁর ঘাড়েও গুরুতর আঘাত লাগে। প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে বর্তমানে তিনি বাড়িতে অবস্থান করছেন।
মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) বিদ্যালয়ের অধ্যক্ষ মোস্তাফিজুর রহমান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, অভিযুক্ত শিক্ষার্থী রিয়াদ ইসলাম কিরন বগুড়া সদর উপজেলার রজাকপুর গ্রামের বিপুল মিয়ার ছেলে। ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে মঙ্গলবার সকালে তাকে বিদ্যালয় থেকে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এ ঘটনায় তার বিরুদ্ধে থানায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।
বিদ্যালয়ে শৃঙ্খলা রক্ষায় শিক্ষকের শাসনকে কেন্দ্র করে এমন হামলার অভিযোগ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষক-শিক্ষার্থীর সম্পর্ক ও নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে। তবে হামলার প্রকৃত কারণ এবং ঘটনার বিস্তারিত তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া প্রয়োজন।