ভুক্তভোগির অভিযোগে প্রকাশ, আদিতমারী উপজেলা টেপা পলাশী গ্রামের মৃত নুর হোসেনের ছেলে মনিরুল ইসলাম জমি ক্রয় করতে গরুসহ বিভিন্ন পন্য বিক্রি করে সাড়ে ৪লাখ টাকা জমিয়েছেন। সারা দেশে ভবঘুরে ঘুরে বেড়ানো প্রতিবেশি চিহ্ণিত চোর নওশের আলী এ খবর পেয়ে সাম্প্রতি বাড়িতে আসেন। গত ২৪ আগস্ট সন্ধ্যায় মনিরুলের বাড়িতে বেড়াতে যান। সেখানে দীর্ঘক্ষণ অপ্রয়োজনীয় গল্পগুজব করেন। এক পর্যায়ে তাদের বাড়ির রান্না করা খাবার টেবিলে রেখে গৃহবধু অন্যকাজে রুমের বাহিরে যান। এ সুযোগে খাবারে চেতনা নাশক কিছু মিশিয়ে বাড়ি থেকে ছটকে পড়েন নওশের আলী।
পরে তারা সবাই রাতের খাবার খেয়ে ঘুমিয়ে পড়েন। পরদিন তাদের বাড়ির কোন সাড়াশব্দ না পেয়ে প্রতিবেশিরা তাদের আত্নীয়দের ফোন করে ডেকে এনে বাড়ির ভিতরে গিয়ে দেখতে পান সবাই ঘুমে অচেতন ঘরের জিনিসপত্র এলোমেলো। পরে স্থানীয়রা মনিরুল তার স্ত্রী রাবেয়া ও ছেলে মুন্না মিয়াকে উদ্ধার করে প্রথমে আদিতমারী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পরে লালমনিরহাট সদর হাসপাতালে ভর্তি করে। সেখানে কয়েকদিন চিকিৎসা শেষে কিছুটা সুস্থ্য হলে তারা বুঝতে পারেন নওশের তাদের জমানো সাড়ে ৪ লাখ টাকা ও স্বর্ণালঙ্কার চুরি করতে তাদের খাবারে চেতনানশক মিশিয়েছে।
এ ঘটনায় কৃষক মনিরুল ইসলাম বাদি হয়ে নওশের আলীর বিরুদ্ধে আদিতমারী থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগ পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল তদন্ত করলেও অদৃশ্য কারনে ৬দিনেও মামলা হিসেবে নথিভুক্ত বা চোরাই পন্য উদ্ধারে সফল হয়নি পুলিশ। অন্যদিকে থানায় অভিযোগ দেয়ার খবরে ক্ষিপ্ত হয়ে নওশের আলী বাদিকে দেখে নেয়ার হুমকী দিচ্ছেন বলে অভিযোগ ভুক্তভোগির।
মনিরুল ইসলামের স্ত্রী রাবেয়া বেগম বলেন, নওশের চিহ্ণিত চোর। সব সসয় দেশের বিভিন্ন এলাকায় চুরি করে। কিছুদিন হলো বাড়ি এসেছে। জমি কেনার কথা শুনে সেদিন হঠাৎ আমার বাড়িতে এসে অপ্রয়োজনীয় গল্পগুজব করে। খাবার টেবিলে খাবার রেখে আমি বাহিরে গেলে সে কিছু সময় একা থেকে আমাদেরকে না বলেই বাড়ি ত্যাগ করে।
বাদি মনিরুল ইসলাম বলেন, আমরা রাতের খাবার খেয়ে অচেতন হয়ে পড়ি। পরে জ্ঞান ফিরলে দেখি হাসপাতালে। আমার নগদ টাকা সাড়ে ৪লাখ ও স্বার্ণালঙ্কার চুরি করেছে নওশের। বিষয়টি থানাকে লিখিত অবগত করলে আজ কাল বলে বিলম্ব করে মঙ্গলবার রাতে জানায় মামলা এখানে হবে না। আদালতে মামলা করতে বলেন ওসি। চোর মোটা অঙ্কে টাকায় থানাকে কিনেছে। তাই আমাদের মামলা নেয়নি। এমনকি অভিযুক্তকে জিজ্ঞাসাবাদও করেনি।
তবে অভিযুক্ত নওশের আলী মুঠোফোনে বলেন, আমি এলাকাতেই কম থাকি, তাদের বাড়িও যাইনি। তারা অসুস্থ্য হয়েছিল তা শুনেছি। চুরির অভিযোগ আপনার উপরে কেন? এমন প্রশ্নে তিনি ফোন কেটে দেন।
আদিতমারী থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা(ওসি) নাজমুস সাকিব সজীব বলেন, অভিযোগ পেয়ে তদন্ত শুরু করেছি। এখন পর্যন্ত চোরাই পন্য উদ্ধার সম্ভব হয়নি। আইনে সুযোগ রয়েছে তদন্ত করেই মামলা নেয়ার। আর অভিযুক্ত পালিয়ে যাবে কোথায়?। মামলা না নেয়া বা হয়রানীর করা যে অভিযোগ বাদির তা সঠিক নয়। আমি নিজেই তদন্তে যাবো।