রোববার (৩০ আগস্ট) দুপুরে দেশের সর্ববৃহৎ সেচ প্রকল্প তিস্তা ব্যারাজ এলাকায় যান তিনি। এ সময় তার সঙ্গে স্ত্রী মিসেস ডিয়ান ডাও, মার্কিন দূতাবাসের উপমিশনপ্রধান মেগান বোল্ডিনসহ দূতাবাসের একটি প্রতিনিধি দল উপস্থিত ছিলেন।
এর আগে সকাল সোয়া ৯টার দিকে ঢাকার বিমানবন্দর থেকে বিমানে নীলফামারীর সৈয়দপুর বিমানবন্দরে পৌঁছান মার্কিন রাষ্ট্রদূত। সেখান থেকে সকাল ১০টার দিকে রংপুরের গঙ্গাচড়া উপজেলার বেতগাড়িতে প্যারাগন গ্রুপ পরিচালিত দুগ্ধ খামার ‘প্যারাগন ডেইরি’ পরিদর্শন করেন। পরে তিনি তিস্তা ব্যারাজ এলাকায় যান।
পরিদর্শনকালে রাষ্ট্রদূত তিস্তা নদীর বর্তমান পরিস্থিতি, নাব্য সংকট ও সেচ প্রকল্পের কার্যক্রম সরেজমিনে পর্যবেক্ষণ করেন। পরে তিস্তা ব্যারাজ এলাকার পানি উন্নয়ন বোর্ডের বিশ্রামাগার ‘অবসর’-এ স্থানীয় কর্মকর্তাদের সঙ্গে সংক্ষিপ্ত মতবিনিময় করেন।
পানি উন্নয়ন বোর্ড রংপুর উত্তরাঞ্চলের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী মোহা. সরফরাজ বান্দা জানান, মতবিনিময়কালে রাষ্ট্রদূতকে তিস্তার পানি ব্যবস্থাপনা, নদী সংস্কার এবং শুষ্ক মৌসুমে পানি সংকটের কারণে স্থানীয় কৃষকদের ওপর সৃষ্ট প্রভাব সম্পর্কে অবহিত করা হয়। এ সময় তিনি আঞ্চলিক পানি ব্যবস্থাপনা এবং তিস্তা অববাহিকায় বসবাসকারী মানুষের সামাজিক ও অর্থনৈতিক পরিস্থিতি সম্পর্কে আগ্রহ প্রকাশ করেন।
তিস্তা ব্যারাজের নান্দনিক পরিবেশ ও চারপাশের সবুজ প্রকৃতি দেখে রাষ্ট্রদূত ও তার স্ত্রী মুগ্ধ হন। তারা ব্যারাজ এলাকায় দাঁড়িয়ে ছবি তোলেন এবং কিছু সময় সেখানে অবস্থান করে পরিবেশ উপভোগ করেন।
এ সময় ইঞ্জিনিয়ার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের আহ্বায়ক শাহরিন ইসলাম চৌধুরী তুহিন, পানি উন্নয়ন বোর্ডের মহাপরিচালক প্রকৌশলী রুহুল আমিন, রংপুর উত্তরাঞ্চলের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মো. আহসান হাবিব ও প্রকৌশলী মো. মিজানুর রহমান, ডিমলা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ ইমরানুজ্জামান এবং হাতীবান্ধা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা দীপজন মিত্রসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
পরিদর্শন শেষে বেলা ৩টার দিকে সড়কপথে পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়ায় এসডিও পরিচালিত অতিথিশালার উদ্দেশে রওনা হন মার্কিন রাষ্ট্রদূত। সেখানে তার রাতযাপনের কথা রয়েছে।
সফরসূচিতে আরও যেসব কর্মসূচি
সফরসূচি অনুযায়ী, সফরের দ্বিতীয় দিন সোমবার (৩১ আগস্ট) ভোরে পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়ার মহানন্দা নদী, সকাল ১০টায় বাংলাবান্ধা শূন্যরেখার চতুর্দেশীয় আন্তর্জাতিক অভিবাসন তল্লাশি চৌকি এবং বেলা ১২টার দিকে পঞ্চগড় জেলা আধুনিক সদর হাসপাতাল পরিদর্শন করবেন মার্কিন রাষ্ট্রদূত।
দুপুর ৩টার দিকে পঞ্চগড় মহিলা কলেজে অবস্থিত পঞ্চগড় পাথর জাদুঘর ও গ্রিন ফিল্ড চা শিল্প কারখানা পরিদর্শন করবেন তিনি। দ্বিতীয় দিনের শেষে ঠাকুরগাঁওয়ের এসডিও অতিথিশালয়ে রাতযাপন করবেন।
সফরের শেষ দিন মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) সকাল ৮টার দিকে ঠাকুরগাঁওয়ের বালিয়াডাঙ্গী উপজেলার হরিণমারী সীমান্তের মন্ডুমালা গ্রামের ঐতিহ্যবাহী ‘সূর্যপুরী আম’ গাছ পরিদর্শন করবেন। এরপর বেলা ১১টার দিকে দিনাজপুরের কান্তজির মন্দির ও নয়াবাদ মসজিদ পরিদর্শনের কথা রয়েছে।
পরে বেলা ১টার দিকে দিনাজপুরের পার্বতীপুর রেলওয়ে স্টেশনসংলগ্ন ১১১ একর জমির ওপর নির্মিত কেন্দ্রীয় লোকোমোটিভ কারখানা পরিদর্শন করবেন তিনি।
সেখান থেকে বিকেল ৩টা ২০ মিনিটে রেলপথে পার্বতীপুর থেকে বিশেষ রাষ্ট্রীয় বগিতে করে সৈয়দপুরের দেশের বৃহত্তম রেলওয়ে কারখানা ও জাদুঘরে যাবেন মার্কিন রাষ্ট্রদূত। সেখানে পরিদর্শন শেষে সৈয়দপুরের চিনি মসজিদ ও সৈয়দপুর খ্রিস্টান গির্জা পরিদর্শন করবেন তিনি। পরে রাতে সৈয়দপুর বিমানবন্দর থেকে বিমানে ঢাকায় ফেরার কথা রয়েছে।
নীলফামারীর পুলিশ সুপার মো. ফরহাদ হোসেন খান বলেন, মার্কিন রাষ্ট্রদূতের সফরকে কেন্দ্র করে জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় নিরাপত্তাব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। সফরসূচি অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট এলাকাগুলোতে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। সফর নির্বিঘ্ন করতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা দায়িত্ব পালন করছেন।