বিশ্লেষকদের মতে, জলবায়ু পরিবর্তন এবং জ্বালানি খাতের অস্থিরতাই এই অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধির প্রধান কারণ। গবেষণায় দেখা গেছে, গত পাঁচ বছরে পাস্তা, হিমায়িত সবজি, চকলেট ও ডিমের মতো নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম অন্তত ৫০ শতাংশ বেড়েছে। সবচেয়ে বেশি বেড়েছে গরুর মাংসের দাম (৬৪ শতাংশ) এবং জলপাই তেলের দাম (দ্বিগুণ)।
খাদ্যভিত্তিক একটি দাতব্য সংস্থার নির্বাহী পরিচালক আনা টেইলর সতর্ক করে বলেছেন, খাদ্যের দাম এভাবে বাড়তে থাকলে নিম্ন আয়ের পরিবারগুলো খাবার কমিয়ে দিতে বাধ্য হবে। এতে শিশুদের অপুষ্টি ও স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়বে, যার প্রভাব পড়বে জাতীয় স্বাস্থ্য ব্যবস্থার ওপর।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ২০২৬ সালেও এই সংকট একটি গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক ইস্যু হয়ে থাকবে। মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত, করোনা মহামারির দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব এবং ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে বৈশ্বিক বাজারে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পূর্বাভাস অনুযায়ী, এ বছরের শেষে খাদ্য মূল্যস্ফীতি ৭ শতাংশে পৌঁছাতে পারে।
গবেষণায় আরও দেখা গেছে, ২০২২ ও ২০২৩ সালে যুক্তরাজ্যের পরিবারগুলোর বার্ষিক খাদ্য ব্যয় গড়ে প্রায় ৬০৫ পাউন্ড বেড়েছে। কৃষি উৎপাদনের ওপর জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে। গত পাঁচ বছরে ইংল্যান্ডে রেকর্ড পরিমাণ ফসলহানি হয়েছে। গবেষকেরা আশঙ্কা করছেন, ২০২৭ সাল ইতিহাসের সবচেয়ে উষ্ণ বছর হতে পারে, যা কৃষি খাতকে আরও বিপর্যয়ের মুখে ঠেলে দেবে।
জীবনযাত্রার এই ব্যয়বৃদ্ধি এখন আর কেবল অর্থনৈতিক সমস্যা নয়, বরং সামাজিক ও জনস্বাস্থ্য সংকটে রূপ নিচ্ছে। গড় আয়ের তুলনায় খাদ্যের দাম প্রায় ১১ শতাংশ বৃদ্ধি পাওয়ায় সাধারণ মানুষের জীবনযাপন ক্রমেই কঠিন হয়ে পড়ছে।