আদালত সূত্রে জানা গেছে, অভিযুক্ত ব্যক্তি নিজেকে দীর্ঘদিন ধরে বেকার, সম্পত্তিহীন এবং আর্থিকভাবে অসহায় হিসেবে উপস্থাপন করে হাউসিং বেনিফিট ও কাউন্সিল ট্যাক্স সহায়তা গ্রহণ করছিলেন। তবে তদন্তে বেরিয়ে আসে তার প্রকৃত আর্থিক অবস্থা ছিল সম্পূর্ণ ভিন্ন।
কাউন্সিলের তদন্ত অনুযায়ী, তিনি ২০১৬ সালে প্রথম ভাতার জন্য আবেদন করেন এবং পরবর্তী সময়ে একাধিকবার তা নবায়ন করেন। ২০১৬ থেকে ২০১৮ সালের মধ্যে তিনি নিয়মিতভাবে সরকারি সহায়তা গ্রহণ করেন, যার মোট পরিমাণ প্রায় এক হাজার পাউন্ডেরও বেশি বলে জানা গেছে।
তবে তদন্তে দেখা যায়, তিনি সম্পূর্ণ সম্পদ গোপন করেছিলেন। ফ্রান্সের বার্গান্ডি অঞ্চলে তার একটি স্থাবর সম্পত্তি ছিল। এছাড়া দুবাইয়ে তার নামে একটি অ্যাপার্টমেন্টও পাওয়া যায়। ২০১৯ সালে তিনি প্রায় ২ লাখ ৫০ হাজার পাউন্ডে একটি সম্পত্তি বিক্রি করেন, যার তথ্য ভাতার আবেদনে উল্লেখ ছিল না।
ব্যাংক হিসাব বিশ্লেষণে আরও বিস্ময়কর তথ্য উঠে আসে। ২০১৬ সালে তার অ্যাকাউন্টে ১ লাখ ২৬ হাজার পাউন্ড এবং ২০১৮ সালে আরও ১ লাখ ৮৫ হাজার পাউন্ড জমা ছিল। শুধু তাই নয়, ২০১৬ থেকে ২০১৯ সালের মধ্যে তার মোট ব্যয় প্রায় ৪ লাখ পাউন্ডের কাছাকাছি পৌঁছায়।
এই অর্থ ব্যয়ের মধ্যে বিলাসবহুল জীবনযাপনও ছিল বলে তদন্তে জানা যায়। লন্ডনের অভিজাত মেফেয়ার এলাকার ব্যয়বহুল রেস্টুরেন্টে খরচ, বিলাসবহুল কেনাকাটা, প্রাইভেট জেটে ভ্রমণ এবং সন্তানদের বেসরকারি স্কুলের ফি পরিশোধের মতো ব্যয় অন্তর্ভুক্ত ছিল।
কাউন্সিলের বেনিফিট জালিয়াতি বিভাগের প্রধান সাইমন রজার বলেন, “এই মামলা আমাদের জন্য একটি স্পষ্ট বার্তা। যারা ভাতা জালিয়াতির মাধ্যমে সিস্টেমের অপব্যবহার করবে, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এটি কোনোভাবেই সহ্য করা হবে না।”
তিনি আরও জানান, এ ধরনের প্রতারণা শুধু আইনভঙ্গ নয়, বরং প্রকৃত দরিদ্র ও অসহায় মানুষের অধিকার হরণ করে।
স্থানীয় বাংলাদেশি কমিউনিটির অনেকেই এই ঘটনাকে সতর্কবার্তা হিসেবে দেখছেন। তাদের মতে, বিদেশে সম্পত্তি, ব্যাংক ব্যালেন্স বা আয়ের উৎস গোপন করে সরকারি সহায়তা নেওয়া নৈতিকভাবে গ্রহণযোগ্য নয় এবং এতে পুরো কমিউনিটির ভাবমূর্তিও ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
একজন প্রবাসী বাংলাদেশি বলেন, “অনেকে বাংলাদেশ বা অন্য দেশে সম্পত্তি ও অর্থ থাকা সত্ত্বেও এখানে নিজেকে নিঃস্ব দেখান। এটা শুধু আইনগত সমস্যা নয়, সামাজিক ন্যায়েরও প্রশ্ন।”
আরেকজন জানান, “যারা সত্যিকারের অসহায়, তাদের জন্য এই বেনিফিট ব্যবস্থা। কেউ যদি প্রতারণা করে সুবিধা নেয়, তাহলে প্রকৃত দরিদ্র মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়।”
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, ভবিষ্যতে এ ধরনের জালিয়াতি রোধে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে আর্থিক তথ্য বিনিময় ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী করা প্রয়োজন। বিশেষ করে বিদেশে থাকা সম্পত্তি ও ব্যাংক হিসাব যাচাইয়ের জন্য আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর নজরদারি ব্যবস্থা চালু করার ওপর তারা গুরুত্ব দিচ্ছেন।
কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এই মামলার রায় ঘোষণার পর ভবিষ্যতে ভাতা জালিয়াতির বিরুদ্ধে আরও কঠোর নজরদারি ও আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।