বুধবার (২৯ এপ্রিল) আনুষ্ঠানিকভাবে ‘পেনশন স্কিমস অ্যাক্ট’ আইনে পরিণত হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছে ডিপার্টমেন্ট ফর ওয়ার্ক অ্যান্ড পেনশনস (ডিডব্লিউপি)। এই আইনকে যুক্তরাজ্যের পেনশন ব্যবস্থায় একটি বড় পরিবর্তন হিসেবে দেখা হচ্ছে।
সরকারের মতে, নতুন এই আইনের মাধ্যমে কর্মজীবী মানুষের সঞ্চয় আরও কার্যকরভাবে পরিচালিত হবে এবং অবসরের সময় বেশি আয় নিশ্চিত করা সম্ভব হবে। নতুন নিয়ম অনুযায়ী, পেনশন স্কিমগুলোকে প্রমাণ করতে হবে যে তারা গ্রাহকদের জন্য যথাযথ আর্থিক সুবিধা দিচ্ছে।
একই সঙ্গে চাকরি পরিবর্তনের ফলে জমে থাকা ছোট ছোট পেনশন ফান্ডগুলো স্বয়ংক্রিয়ভাবে একত্রিত করার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। ফলে মানুষ সহজেই তাদের মোট সঞ্চয়ের হিসাব রাখতে পারবেন এবং ভালো রিটার্ন পাওয়ার সুযোগ বাড়বে। ডিডব্লিউপি জানিয়েছে, অনেকেই বিভিন্ন চাকরির কারণে একাধিক ছোট পেনশন ফান্ড তৈরি করেন, যা পরে ট্র্যাক করা কঠিন হয়ে পড়ে। এই সমস্যার সমাধানেই নতুন আইনে স্বয়ংক্রিয় একত্রীকরণ যুক্ত করা হয়েছে।
এছাড়া “ভ্যালু ফর মানি” কাঠামো চালু করা হয়েছে, যা দুর্বল পারফরম্যান্স করা স্কিম থেকে সঞ্চয়কারীদের সুরক্ষা দেবে। ভবিষ্যতে পেনশন স্কিম পরিচালনাকারীদের এমন ডিফল্ট অপশন দিতে হবে, যার মাধ্যমে মানুষ সহজেই তাদের সঞ্চয়কে নিয়মিত অবসরকালীন আয়ে রূপান্তর করতে পারবেন।
পেনশন বিষয়ক মন্ত্রী টরস্টেন বেল বলেন, এই আইন যুক্তরাজ্যের কোটি কোটি কর্মীর জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি। তার মতে, এতদিন পেনশন ব্যবস্থা অনেকটাই বিচ্ছিন্ন ছিল এবং মানুষের সঞ্চয় যথাযথভাবে কাজে লাগছিল না। নতুন আইন সেই সমস্যার সমাধান করবে, খরচ কমাবে এবং রিটার্ন বাড়াবে।
অন্যদিকে সেন্ট জেমস প্লেসের পরামর্শ প্রধান ক্লেয়ার ট্রট এই পরিবর্তনকে স্বাগত জানালেও কিছু উদ্বেগের কথাও তুলে ধরেন। তিনি বলেন, ডিফল্ট অবসরকালীন সমাধান চালু হলে মানুষের নিজস্ব সিদ্ধান্ত গ্রহণের আগ্রহ কমে যেতে পারে এবং পরামর্শ ও নির্দেশনার মধ্যে পার্থক্য অস্পষ্ট হয়ে উঠতে পারে। তবে তিনি আশা প্রকাশ করেন, ভবিষ্যতে সরকার ও সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলো একসঙ্গে কাজ করে এমন নীতি তৈরি করবে, যা অর্থনীতিকে শক্তিশালী করার পাশাপাশি মানুষকে দীর্ঘমেয়াদি আর্থিক পরিকল্পনায় আরও সক্রিয় করবে।
এদিকে অনেক ব্রিটিশ বাংলাদেশি মনে করছেন, এই আইন তাদের জন্য বিশেষভাবে উপকারী হবে-বিশেষ করে যারা বারবার চাকরি পরিবর্তন করেছেন। লন্ডনভিত্তিক এক বাংলাদেশি কর্মী বলেন, “আমরা অনেকেই বিভিন্ন সময়ে চাকরি বদলাই। ফলে ছোট ছোট পেনশন ফান্ড জমে যায়। এগুলো একত্রিত হলে ভবিষ্যতে বড় অঙ্কের অর্থ পাওয়া সহজ হবে।”
কিছু ব্যবসায়ী ও পেশাজীবী মনে করছেন, পেনশন স্কিমে ‘ভ্যালু ফর মানি’ বাধ্যতামূলক হওয়ায় এখন ফান্ডগুলো আরও ভালো রিটার্ন দিতে বাধ্য হবে, যা দীর্ঘমেয়াদে সঞ্চয় বাড়াতে সহায়ক হবে। তবে কমিউনিটির ভেতরে এখনো পেনশন বিষয়ে সচেতনতা কম-বিশেষ করে নতুন অভিবাসী ও স্বল্প আয়ের মানুষের মধ্যে এ বিষয়ে জানাশোনা সীমিত।