গত দুই দশকে যুক্তরাজ্যে রাজনৈতিক আশ্রয় বা অ্যাসাইলাম আবেদনকে ঘিরে তৈরি হয়েছে নতুন বাস্তবতা। প্রকৃত নির্যাতিত ও ঝুঁকিতে থাকা মানুষের পাশাপাশি এই ব্যবস্থার অপব্যবহারের অভিযোগও বেড়েছে। ভুয়া তথ্য, সাজানো গল্প, দালালচক্র, অননুমোদিত পরামর্শক, রাজনৈতিক পরিচয় বদলে আবেদন, সমকামী বা নাস্তিক সেজে কেস তৈরি—এমন নানা অভিযোগ নিয়ে তদন্তে নেমেছে ব্রিটিশ কর্তৃপক্ষ। একই সঙ্গে এতে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন সত্যিকারের আশ্রয়প্রার্থীরা। যুক্তরাজ্যে ভুয়া অ্যাসাইলামের এই অন্ধকার জগত, এর কৌশল, অর্থের লেনদেন, বাংলাদেশি সংশ্লিষ্টতা এবং রাজনৈতিক প্রভাব নিয়ে চ্যানেল এইটটিনের এই ধারাবাহিক অনুসন্ধান।
৫ম পর্বে যা ছিল- বাংলাদেশি শিক্ষার্থীরা টার্গেট: লাখ টাকার প্রতারণা
প্রশ্ন উঠছে, এত প্রতারণা হলে সেগুলো ধরা পড়ে না কেন?
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কয়েকটি কারণে এই জালিয়াতি টিকে আছে।
প্রথমত, যৌন পরিচয়, ধর্মীয় বিশ্বাস বা ব্যক্তিগত ভয়—এসব বিষয় অনেক সময় সরাসরি প্রমাণ করা কঠিন।
দ্বিতীয়ত, বিদেশি দেশের নথি, মামলা বা সামাজিক বাস্তবতা যাচাই করতে সময় লাগে।
তৃতীয়ত, আবেদন বাতিল হলেও আপিলের দীর্ঘ সুযোগ রয়েছে। ফলে বহু বছর মামলা চলতে পারে।
চতুর্থত, অনলাইন নথি, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের তথ্য এবং বিদেশি ভাষার উপকরণ যাচাই সব সময় সহজ নয়।
একজন সাবেক কর্মকর্তা বলেন, ‘প্রকৃত কেস আর সাজানো কেস আলাদা করা অনেক সময় অত্যন্ত কঠিন হয়ে পড়ে।’
তবে সরকারের দাবি, এখন যাচাই–বাছাই আগের চেয়ে কঠোর হয়েছে।