পর্ব–৭
প্রকৃত শরণার্থীদের কান্না: মিথ্যার ভিড়ে হারিয়ে যাচ্ছে সত্য
লন্ডন থেকে বিশেষ প্রতিনিধি
|
২০২৬-০৪-২১ ১৩:৪৮
সিইও: সাজ্জাদ হোসেন
বাংলাদেশ অফিস: ইউরোপা টাওয়ার, ফ্ল্যাট ৩/বি, ৩৮৩/১/এফ বিটিভি সংলগ্ন, পূর্ব রামপুরা, ঢাকা-১২১৯।
যুক্তরাজ্য অফিস: লেক্স হাউস, ১-৭ হেইনল্ট স্ট্রিট, ইলফোর্ড আইজি১ ৪ইএল, যুক্তরাজ্য।
ফোন : +৪৪ ৭৪৯৫ ৯২২৫৮২
© ২০২৬ | চ্যানেল ১৮ কর্তৃক সর্বসত্ব ® সংরক্ষিত | Powered by: channel18 IT
গত দুই দশকে যুক্তরাজ্যে রাজনৈতিক আশ্রয় বা অ্যাসাইলাম আবেদনকে ঘিরে তৈরি হয়েছে নতুন বাস্তবতা। প্রকৃত নির্যাতিত ও ঝুঁকিতে থাকা মানুষের পাশাপাশি এই ব্যবস্থার অপব্যবহারের অভিযোগও বেড়েছে। ভুয়া তথ্য, সাজানো গল্প, দালালচক্র, অননুমোদিত পরামর্শক, রাজনৈতিক পরিচয় বদলে আবেদন, সমকামী বা নাস্তিক সেজে কেস তৈরি—এমন নানা অভিযোগ নিয়ে তদন্তে নেমেছে ব্রিটিশ কর্তৃপক্ষ। একই সঙ্গে এতে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন সত্যিকারের আশ্রয়প্রার্থীরা। যুক্তরাজ্যে ভুয়া অ্যাসাইলামের এই অন্ধকার জগত, এর কৌশল, অর্থের লেনদেন, বাংলাদেশি সংশ্লিষ্টতা এবং রাজনৈতিক প্রভাব নিয়ে চ্যানেল এইটটিনের এই ধারাবাহিক অনুসন্ধান।
৬ষ্ঠ পর্বে যা ছিল- কেন ধরা পড়ে না: ব্যবস্থার ফাঁকফোকর কোথায়
ভুয়া অ্যাসাইলাম বাণিজ্যের সবচেয়ে বড় মূল্য দিচ্ছেন প্রকৃত শরণার্থীরা।
যারা সত্যিই রাজনৈতিক নির্যাতন, ধর্মীয় নিপীড়ন, যুদ্ধ, পারিবারিক সহিংসতা বা যৌন পরিচয়ের কারণে জীবনসংকটে দেশ ছাড়েন, তাদের আবেদনও এখন বাড়তি সন্দেহের মুখে পড়ে।
মানবাধিকার সংগঠনগুলোর ভাষ্য, সাক্ষাৎকার আরও দীর্ঘ হচ্ছে, প্রমাণের চাপ বাড়ছে, সিদ্ধান্ত পেতে বছরের পর বছর লেগে যাচ্ছে।
উগান্ডা থেকে পালিয়ে আসা এক নারী বলেন, ‘আমি সত্যি নির্যাতনের শিকার হয়েছি। কিন্তু আমাকে এমনভাবে প্রশ্ন করা হয়েছে, যেন আমি মিথ্যা বলছি।’
এক পাকিস্তানি সমকামী আশ্রয়প্রার্থী বলেন, ‘ভুয়া কেসের কারণে আমাদের সত্য কথাও বিশ্বাস করা হয় না।’
বিশ্লেষকদের মতে, আশ্রয়ব্যবস্থা কোনো শর্টকাট অভিবাসনপথ নয়। এটি জীবন বাঁচানোর মানবিক অধিকার। যখন সেটি ব্যবসায় পরিণত হয়, তখন ক্ষতিগ্রস্ত হয় আইন, রাষ্ট্র এবং সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয় অসহায় মানুষ।