সম্প্রতি এমনই এক আলোচিত প্রতারণার ঘটনা সামনে এসেছে। স্যারের হার্লের ইয়ারটেনডন রোডের বাসিন্দা গেরি শ্যারেড পাঁচটি জালিয়াতির অভিযোগে দোষ স্বীকার করেছেন। আগামী ২৯ মে গিলফোর্ড ক্রাউন কোর্টে তার সাজা ঘোষণা করা হবে।
রিগেট অ্যান্ড ব্যানস্টেড ব্যুরো কাউন্সিল জানায়, ২০১৮ সালে শুরু হওয়া তদন্তে দেখা যায় তিনি নিজেকে বেকার, সম্পত্তিহীন এবং আর্থিকভাবে অসহায় দাবি করে হাউজিং বেনিফিট ও কাউন্সিল ট্যাক্স রিডাকশন গ্রহণ করেছিলেন। কিন্তু পরে তদন্তে বেরিয়ে আসে ফ্রান্সের বারগান্ডি অঞ্চলে তার একটি সম্পত্তি ছিল এবং তার নামে অঘোষিত ব্যাংক হিসেবে বড় অঙ্কের অর্থ জমা ছিল।
কাউন্সিলের তথ্যমতে, তিনি প্রথম ২০১৬ সালে ভাতার জন্য আবেদন করেন এবং ২০১৮ থেকে ২০২০ সালের মধ্যে তিনবার তা নবায়ন করেন। এই সময়ে তিনি হাজার হাজার পাউন্ড সরকারি সহায়তা নিয়েছেন।
তার দুবাইয়ে একটি অ্যাপার্টমেন্ট ছিল এবং স্যারের একটি সম্পত্তি ২০১৯ সালে প্রায় ২ লাখ ৫০ হাজার পাউন্ডে বিক্রি করেন।
ব্যাংক লেনদেন দেখা গেছে, ২০১৬ সালে তার হিসেবে জমা হয় ১ লাখ ২৬ হাজার পাউন্ড এবং ২০১৮ সালে আরও ১ লাখ ৮৫ হাজার পাউন্ড।
২০১৬ থেকে ২০১৯ সালের মধ্যে তিনি প্রায় ৪ লাখ পাউন্ড খরচ করেন।
এর মধ্যে ছিল বিলাসবহুল কেনাকাটা, লন্ডনের মেফেয়ার এলাকার রেস্টুরেন্টে ব্যয়, প্রাইভেট জেটে ভ্রমণ এবং স্কুল ফি পরিশোধ।
কাউন্সিলের রেভিনিউ বেনিফিট ও জালিয়াতি বিভাগের প্রধান সাইমন রোজার বলেন, এই ঘটনা প্রমাণ করে ভাতা জালিয়াতির বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে এবং কোনো ধরনের প্রতারণা সহ্য করা হবে না।
এই ঘটনা অনেকের জন্য সতর্কবার্তা। যারা ইউরোপ, বাংলাদেশ বা অন্য দেশে বাড়ি, সম্পত্তি, ব্যাংক ব্যালেন্স বা আর্থিক সম্পদ গোপন রেখে যুক্তরাজ্যে হাউজিং বেনিফিট, কাউন্সিল হাউস এবং অন্যান্য সরকারি সহায়তা দাবি করেন, তাদের মনে রাখা উচিত: আবেদনের সময় বিদেশের সম্পত্তি, সঞ্চয় এবং আর্থিক অবস্থার তথ্য সঠিকভাবে ঘোষণা করা বাধ্যতামূলক। যদি কেউ এসব তথ্য গোপন করেন, তদন্তে ধরা পড়লে শুধু ভাতাই বন্ধ হবে না, বরং আদালত জরিমানা, অর্থ ফেরত এবং কারাদণ্ড পর্যন্ত হতে পারে। তাই বেনিফিট ব্যবস্থা শুধুমাত্র প্রকৃত প্রয়োজনীয়দের জন্য, প্রতারণার জন্য নয়।
একজন ব্রিটিশ বাংলাদেশি বলেন, যুক্তরাজ্যের বেনিফিট ব্যবস্থা তৈরি করা হয়েছে তাদের জন্য যারা সত্যি অর্থে অসুস্থ, বেকার বা আর্থিক সংকটে রয়েছেন। কিন্তু যাদের বিদেশে বাড়ি-সম্পত্তি, ব্যাংকে টাকা এবং বিলাসবহুল জীবন আছে, তারা যদি প্রতারণা করে এই সুবিধা নেন, তাহলে প্রকৃত দরিদ্র মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
আরেকজন বলেন, অনেকেই বাংলাদেশ বা অন্য দেশে জমি, ফ্ল্যাট, ব্যবসা বা ব্যাংক ব্যালেন্স লুকিয়ে এখানে নিজেকে নিঃস্ব দেখান। সরকারকে এসব বিষয়ে আরও আধুনিক তদন্ত ব্যবস্থা চালু করা উচিত এবং বিদেশি সম্পদের তথ্য যাচাই করা দরকার।