মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) দুপুরে নিজ কার্যালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে ধর্মঘটের ঘোষণা দেন সংগঠনটির সাধারণ সম্পাদক আবু মঈন চৌধুরী সোহেল।
তিনি জানান, মৌলভীবাজারের শেরপুর এলাকায় হবিগঞ্জের বিরতিহীন এক্সপ্রেস বাসের চালক ও শ্রমিকদের দীর্ঘদিন ধরে হয়রানি করা হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে। সম্প্রতি তিনটি বাসও আটকে রাখা হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।
মোটর মালিক গ্রুপের সাধারণ সম্পাদক বলেন, বিষয়টি সমাধানে একাধিকবার বৈঠক হলেও কার্যকর কোনো সমাধান হয়নি। এ অবস্থায় বাধ্য হয়ে ধর্মঘটের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
তার ভাষ্য অনুযায়ী, ১ অক্টোবর থেকে হবিগঞ্জ জেলার কোনো সড়কে গণপরিবহন চলাচল করবে না। বিরোধের সমাধান না হওয়া পর্যন্ত ধর্মঘট চলবে। এ বিষয়ে
মঙ্গলবার সিলেটের বিভাগীয় কমিশনারের কাছে স্মারকলিপিও দেওয়া হয়েছে।
উল্লেখ্য, হবিগঞ্জ মোটর মালিক গ্রুপের সঙ্গে মৌলভীবাজার এসএমএম পরিবহণ মালিক ও শ্রমিকদের দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছে। মৌলভীবাজারের এসএমএস পরিবহণ মালিক ও শ্রমিকরা হবিগঞ্জের বাস মৌলভীবাজারের ওপর দিয়ে চলাচলে বাধা দেন। বিভিন্ন সময় শ্রমিকদের মারধর ও গাড়ি ভাঙচুরের ঘটনাও ঘটে। একপর্যায়ে হবিগঞ্জের ওপর দিয়ে মৌলভীবাজারের বাস চলাচলেও বাধা দেওয়া হয়। হবিগঞ্জ মোটর মালিক গ্রুপের মালিক ও শ্রমিকরা শায়েস্তাগঞ্জে অরবোধ কর্মসূচিও পালন করেন।
পরবর্তীতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে এ বিষয়টি সমাধানের আশ্বাস দিলে তারা অবরোধ কর্মসূচি প্রত্যাহার করেন। গত ১২ জুন সিলেট বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়ে জাতীয় সংসদের হুইপ জিকে গউছ এমপির নেতৃত্বে ৫ জন এমপিসহ প্রশাসনের বিভাগীয় কর্মকর্তাদের সমন্বয়ে এক সমঝোতা বৈঠকে দুইপক্ষের বিরোধ নিষ্পত্তিও করা হয়। কিন্তু গত ১১ সেপ্টেম্বর ও সর্বশেষ ২৪ সেপ্টেম্বর সিলেট থেকে ৩টি বিরতিহীন এক্সপ্রেস বাস মৌলভীবাজারে পৌঁছলে বাসগুলো আটক করা হয়। এর প্রতিবাদে ১ অক্টোবর থেকে অনির্দিষ্টকালের জন্য পরিবহণ ধর্মঘটের ডাক দিয়েছেন হবিগঞ্জ মোটর মালিক গ্রুপ।