লিখিত বক্তব্যে মোস্তাফিজুর রহমান জানান, তিনি প্রাক্তন প্রফেসর। তার নিজ কন্যা সন্তানের অত্যাচারে জীবনের শেষ প্রান্তে এসে অসহায় হয়ে পড়েছেন। তার দুই স্ত্রীর ঘরে চার ছেলে ও তিন কন্যা রয়েছে। এর মধ্যে স্ত্রী রাজিয়া বেগমের ঘরে তিন ছেলে এক মেয়ে ও স্ত্রী হাসিনা বেগমের ঘরে এক ছেলে দুই মেয়ে। মেয়ে জুলিয়া রহমান বণ্যা দ্বিতীয় স্ত্রী হাসিনা বেগমের ঘরের সন্তান। তার এ কন্যা তাকে বিভিন্ন সময়ে মারধরসহ ও মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানি করে আসছে। ২০১১সালে তার এ কন্যা তাকে ও তার তৃতীয় স্ত্রীকে মেরে রক্তাক্ত করে জখম করে বাড়ী থেকে টাকা পয়সা ও স্বর্ণলংকার লুট করে নিয়ে যায় এবং তার বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দেয়। এ ঘটনায় আহত হয়ে স্ত্রীসহ তিনি ভোলা সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন। বর্তমানে তার কাছে কোন টাকা-পয়সা না থাকায় তিনি চাকুরীজীবী ছেলেদের কাছে ঢাকায় অবস্থান করছেন। এর পরও বৃদ্ধ বয়সে মেয়ে জুলিয়া রহমান তাকেসহ পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের বিরুদ্ধে একের পর এক মিথ্যা মামলা দিয়ে যাচ্ছে।
লিখিত বক্তব্যে তিনি আরো জানান, মেয়ে জুলিয়া রহমান তার বাড়ী-ঘর সন্ত্রাসীদের দ্বারা দখল করে রেখেছে। অথচ ওই জমিতে বসবাস করার কোনো আইনী কাগজপত্র বা দলিল নেই। মেয়ের অত্যাচারে ক্ষিপ্ত হয়ে ওই জমি ও ঘর তার অন্য সন্তানদের ও স্ত্রীকে হেবা দলিল দিয়ে মালিকানা হস্তান্তর করেছেন। তার অবাধ্য মেয়ে জুলিয়া রহমান বণ্যার অত্যাচারের কারনে স্থানীয় চেয়ারম্যান ও মেম্বারসহ গণ্যমান্য প্রায় ১০০জনের স্বাক্ষরসহ বিগত সময়ে পুলিশ সুপার বরাবর আইনী প্রতিকার চেয়ে দরখাস্ত করা হয়েছে।
তিনি ভোলা বাড়ী থেকে মেয়ের দ্বারা বিতারিত হয়ে ঢাকায় তার চাকুরীজীবী সন্তানের কাছে থাকা অবস্থায় গত ২০দিন আগে জুলিয়া রহমান বণ্যা নিজে ও বহিরাগত সন্ত্রাসী দ্বারা তাকে তুলে নিয়ে যাওয়ার জন্য চেষ্টা করে এবং হামলা করে। এ অবস্থায় জাতীয় জুরুরী সেবা ৯৯৯ কল দিলে ঢাকার গেন্ডারিয়া থানার পুলিশের সহযোগীতায় তা প্রতিহত করেন।
তিনি ৯০বছর বয়স অতিবাহিত করেছেন। বর্তমানে কারো সহযোগীতা ছাড়া হাটতে চলতে পারেন না। অসুস্থ অবস্থায় তার সন্তানদের ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করে জীবনের এ সংকটাপন্ন সময়ে তার ও পরিবারের সদস্যদের নামে যে মিথ্যা মামলা করা হয়েছে তা প্রত্যাহারসহ জুলিয়া রহমানের কাছ থেকে নিজ বাড়ি ঘর ফিরে পেতে প্রশাসনের সহযোগীতা কামনা করেন।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত জুলিয়া রহমান বণ্যা পাল্টা অভিযোগ করে বলেন, গত প্রায় ২০বছর তার বাবা তার ৭০বছর বয়সী মায়ের ভরনপোষণ দেন না। এমনকি তার কোনো খোঁজ খবর নেন না। এ বিষয়ে তিনি ও তার মা আদালতে মামলা করেছেন। আদালত তার মায়ের পক্ষে রায় দিয়েছেন। গত কয়েক বছর ধরে তার সৎ ভাইয়েরা তার বাবাকে গোপন করে রেখেছেন। কোথায় আছেন সেই খবরও ছিলো না। গত মাসের ১৮তারিখে ঢাকায় তার বাবাকে খুঁজে পেয়েছেন। এখন এসে তার বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ করেন।