বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) দিবাগত রাত প্রায় ২টার দিকে বগুড়ার শিবগঞ্জ উপজেলার আটমুল ইউনিয়নের দোপাড়া গ্রাম থেকে ২২ ইঞ্চি উচ্চতার কালো কষ্টিপাথরের বিষ্ণু মূর্তিটি উদ্ধার করা হয়।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, দোপাড়া হিন্দুপাড়া গ্রামের গোকুল চন্দ্র মালির ছেলে দলু চন্দ্র মালি (৩৫) বাড়ির পাশের একটি স্থানে মূর্তিটি দেখতে পান। বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে তিনি শিবগঞ্জ থানায় জানালে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে তার বাড়ির সামনের পাকা সড়ক থেকে মূর্তিটি জব্দ করে থানায় নিয়ে যায়।
উদ্ধার হওয়া মূর্তিটি কালো কষ্টিপাথরের তৈরি এবং এর উচ্চতা প্রায় ২২ ইঞ্চি। তবে এখন পর্যন্ত এর ওজন নির্ধারণ করা হয়নি। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, এটি একটি প্রাচীন বিষ্ণু মূর্তি, যা ঐতিহাসিক ও প্রত্নতাত্ত্বিক দিক থেকে গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে।
স্থানীয়দের মতে, শিবগঞ্জ ও মহাস্থানগড় অঞ্চল প্রাচীন পুণ্ড্রবর্ধন জনপদের অংশ হওয়ায় এ এলাকায় অতীতেও বিভিন্ন সময় প্রাচীন মূর্তি, মুদ্রা ও প্রত্নবস্তু উদ্ধার হয়েছে। নতুন করে এই বিষ্ণু মূর্তি উদ্ধারের ঘটনায় এলাকাজুড়ে কৌতূহল সৃষ্টি হয়েছে।
শিবগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শাহিনুজ্জামান বলেন, খবর পাওয়ার পর পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মূর্তিটি উদ্ধার করে থানার হেফাজতে নিয়েছে। আইনগত প্রক্রিয়া শেষে প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে মূর্তিটি হস্তান্তরের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
প্রত্নতত্ত্ববিদদের মতে, কষ্টিপাথরের এ ধরনের মূর্তির বয়স, নির্মাণশৈলী ও ঐতিহাসিক গুরুত্ব নির্ধারণে বিশেষজ্ঞদের পরীক্ষা-নিরীক্ষা প্রয়োজন। সেই মূল্যায়নের পরই জানা যাবে, উদ্ধার হওয়া এই বিষ্ণু মূর্তিটি বাংলার প্রাচীন ইতিহাসে নতুন কোনো তথ্যের দুয়ার খুলে দিতে পারে কি না।