জানাযায়, স্কুলছাত্রী ধর্ষণের শিকার হয়ে ২৭ সপ্তাহেরও বেশি সময় ধরে অন্তঃসত্ত্বা হওয়ার এক চাঞ্চল্যকর ও জঘন্য ঘটনা ঘটেছে। এই ঘটনায় অভিযুক্ত দর্জি দোকানের মালিক মো. ওয়াহিদ শেখকে (৫৪) ইতিমধ্যে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। অন্যদিকে, সরকারি হোমে আশ্রিত শিশুর সুরক্ষায় চরম অবহেলার অভিযোগে সমাজসেবা অধিদপ্তরের পাঁচ কর্মকর্তা ও কর্মচারীকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়েছে।
মামলার এজাহার ও স্থানীয় সূত্রে জানাযায়, শিশুটি শহরের টেপাখোলা এলাকার একটি স্কুলের ষষ্ঠ শ্রেণির ছাত্রী। চলতি বছরের (৫ জানুয়ারি) বিকেলে ওই এলাকার এক দর্জির দোকানের মালিক মো. ওয়াহিদ শেখ তাকে চকলেট দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে প্রথমবার ধর্ষণ করে। পরবর্তীতে শিশুটিকে একাধিকবার ধর্ষণ করে।
বিষয়টি দীর্ঘদিন গোপন থাকলেও, গত (৬ জুলাই) মেয়েটির শরীরে চরম শারীরিক জটিলতা দেখা দিলে পুরো ঘটনাটি জানাজানি হয়। পরে পুলিশ দ্রুত অভিযান চালিয়ে ফরিদপুর সদর উপজেলার আদমপুর গ্রামের মৃত আব্দুল আজিজ শেখের ছেলে অভিযুক্ত ওয়াহিদ শেখকে গ্রেপ্তার করে।
এই ঘটনায় হোমের অভ্যন্তরে থাকা একটি শিশুর এমন শারীরিক অবস্থা তৈরি হওয়া এবং তা কর্তৃপক্ষের নজরে না আসা নিয়ে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। এই ঘটনায় দায়িত্বে অবহেলার সুনির্দিষ্ট অভিযোগে সমাজসেবা অধিদপ্তর তাদের পাঁচ কর্মকর্তা ও কর্মচারী
মো.হাবিবুর রহমান(সহকারী তত্ত্বাবধায়ক)
শামসুন্নাহার আক্তার(সহকারী তত্ত্বাবধায়ক)
তানিয়া তাজরীণ(সহকারী তত্ত্বাবধায়ক)
মনি আক্তার(মেট্রন-কাম-নার্স)
আবীর দাস(কম্পিউটার অপারেটর)কে সাময়িক ভাবে বরখাস্ত করা হয়।
এই ন্যক্কারজনক ঘটনার পর সচেতন মহল ও সাধারণ মানুষের মনে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয় ও সচেতন নাগরিকদের দাবি, যারা এই জঘন্য অপরাধের সঙ্গে সরাসরি বা পরোক্ষভাবে জড়িত, তাদের প্রত্যেকের বিরুদ্ধে একটি সম্পূর্ণ নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে। শুধু সাময়িক বরখাস্তের মধ্যেই এই পদক্ষেপ সীমাবদ্ধ রাখলে চলবে না; দায়িত্বে অবহেলা বা অপরাধ আড়াল করার কোনো প্রমাণ মিললে কাউকেই ছাড় দেওয়া যাবে না। একটি নিষ্পাপ শিশুর প্রতি এমন জঘন্যতম অপরাধের দ্রুত এবং দৃষ্টান্তমূলক বিচার নিশ্চিত করাই হবে ভুক্তভোগীর প্রতি ন্যূনতম ন্যায়বিচার।