সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, প্রাথমিকভাবে প্রায় ১৮০ কিলোমিটার সড়ক চার লেনে উন্নীত করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। ইতোমধ্যে বগুড়ার একাধিক সংসদ সদস্য সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ে আধা-সরকারি চিঠি দিয়েছেন। সেই প্রস্তাবের ভিত্তিতেই মাঠ জরিপ, সম্ভাব্যতা যাচাই ও ব্যয় নিরূপণের প্রস্তুতি শুরু হয়েছে। সমীক্ষা পরিচালনায় বুয়েটের ব্যুরো অব রিসার্চ, টেস্টিং অ্যান্ড কনসালটেশন বিভাগের অনুমোদনের অপেক্ষা চলছে।
সবচেয়ে গুরুত্ব পাচ্ছে বগুড়া-সারিয়াকান্দি সড়ক। প্রায় ২২ কিলোমিটার দীর্ঘ এই সড়ককে চার লেনের আঞ্চলিক মহাসড়কে উন্নীত করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। একইসঙ্গে সারিয়াকান্দি পৌর বাইপাস নির্মাণের কথাও রয়েছে।
এছাড়া মোকামতলা থেকে সোনাতলার তেকানী হয়ে সারিয়াকান্দি পর্যন্ত প্রায় ৫০ কিলোমিটার সড়ক চার লেনে উন্নীত করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। কারণ হিসেবে সামনে এসেছে সম্ভাব্য দ্বিতীয় যমুনা সেতু। সারিয়াকান্দি থেকে জামালপুরে নতুন সেতু নির্মাণ হলে উত্তরাঞ্চল ও মধ্যাঞ্চলের যোগাযোগে আমূল পরিবর্তন আসবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
সওজের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. রাশেদুল হক বলেন, দ্বিতীয় যমুনা সেতু বাস্তবায়িত হলে বগুড়া-সারিয়াকান্দি সড়কে যানবাহনের চাপ বহুগুণ বেড়ে যাবে। তাই আগেভাগেই সড়ক চার লেন করার পরিকল্পনা নেওয়া হচ্ছে। অনুমতি মিললে বুয়েটের গবেষকরা সমীক্ষা চালাবেন।
বগুড়ার চারমাথা থেকে নওগাঁ পর্যন্ত প্রায় ৪০ কিলোমিটার সড়ককে জাতীয় মহাসড়কে উন্নীত করার উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে। এই সড়কের সঙ্গে যুক্ত থাকবে প্রস্তাবিত বগুড়া আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ও বিমানঘাঁটির বিশেষ সংযোগ সড়ক এবং সার্ভিস লেন।
বর্তমানে নওগাঁ, জয়পুরহাট ও রাজশাহী অঞ্চলের মানুষের অন্যতম ব্যস্ত রুট এটি। চার লেনে উন্নীত হলে যাতায়াতের সময় কমবে, বাড়বে বাণিজ্যিক যোগাযোগও।
দুপচাঁচিয়ার বাসিন্দা গোলাম মুক্তাদির বলেন, আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর কাছাকাছি হওয়ায় পুরো এলাকাতেই পরিবর্তনের ছোঁয়া লাগছে। এখনই সড়ক চার লেন করা সময়োপযোগী সিদ্ধান্ত।
হিলি বন্দর ও পুরোনো দিনাজপুর সড়কেও চার লেন
মোকামতলা থেকে হিলি স্থলবন্দর পর্যন্ত প্রায় ২৬ কিলোমিটার সড়ক চার লেনে উন্নীত করার প্রস্তাব এসেছে। এতে হিলি বন্দর হয়ে পণ্য পরিবহন আরও গতিশীল হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
একইসঙ্গে বারোপুর থেকে নামুজা ও ক্ষেতলাল হয়ে জয়পুরহাট পর্যন্ত পুরোনো দিনাজপুর সড়কও চার লেনে উন্নীত করার পরিকল্পনা রয়েছে। ফলে উত্তরাঞ্চলের আন্তঃজেলা যোগাযোগ আরও দ্রুত ও নিরাপদ হবে।
বগুড়া শহরের দীর্ঘদিনের যানজট নিরসনে মাটিডালি থেকে বনানীর বেতগাড়ী পর্যন্ত ১৬ কিলোমিটার দ্বিতীয় বাইপাস সড়ক চার লেনে উন্নীত করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। এই সড়কটি আগে জাতীয় মহাসড়ক হিসেবে নির্মিত হয়েছিল। নতুন পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে ভারী যানবাহনের চাপ শহরের ভেতর থেকে কমে আসবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
ব্যবসা-বাণিজ্যে নতুন সম্ভাবনা
গাবতলীর নেপালতলী এলাকার ব্যবসায়ী মো. সোহেল রানা আকন্দ বলেন, “যদি সেতু হয় আর রাস্তা চার লেন হয়, তাহলে ব্যবসায়িক যোগাযোগ আরও বাড়বে। জামালপুর থেকে প্রচুর মানুষ বগুড়ায় আসে। যাতায়াত সহজ হলে ব্যবসাও বাড়বে।”
বগুড়া-১ আসনের সংসদ সদস্য কাজী রফিকুল ইসলাম বলেন, দ্বিতীয় যমুনা সেতুর পরিকল্পনাকে সামনে রেখেই বগুড়া-সারিয়াকান্দি ও মোকামতলা-সারিয়াকান্দি সড়ক চার লেনের দাবি জানানো হয়েছে। এতে কৃষক, ব্যবসায়ীসহ বিপুল জনগোষ্ঠী উপকৃত হবে।
সওজের উপসহকারী প্রকৌশলী মাহবুব আলম জানান, পাঁচটি সড়ক নিয়ে পরিকল্পনা থাকলেও সমীক্ষার পর দৈর্ঘ্য কিছুটা কম-বেশি হতে পারে। তবে সব মিলিয়ে প্রায় ১৮০ কিলোমিটার সড়ক চার লেনে উন্নীত করার লক্ষ্য নিয়েই কাজ এগোচ্ছে।