দস্যুদের কাছে জিমি থাকা জেলেরা হলেন- ইয়াসিন হাওলাদার (২৩), শরণখোলার উত্তর রাজাপুর গ্রামের, রুবেল হাওলাদার (৩০), আলমগীর ফরাজী (৫০), বাদল হাওলাদার (৩৫),সজিব হাওলাদার (২৭), হাফিজুল (২২), ছগির (৩২), পাথরঘাটা এলাকার রুবেল (২৫), খুলনার বটিয়াঘাটার দেব চন্দ্র (২৫), রাকিব (২৩) ও লুৎফর হাওলাদার (৩০)।
বাড়িতে ফেরা এ সব জেলেরা বলেন, ৩ মে রাতে পূর্ব সুন্দরবনের আলোরকোল এলাকা থেকে জাহাঙ্গীর বাহিনীর সদস্যরা এই ১১ জেলেকে অপহরণ করে। পরে তাদের পায়ে শিকল পরিয়ে আটকে রাখে। অপহরণের তিন দিন পরে সুন্দরবনের আরেকটি ডাকাত দল শরিফ বাহিনীর সঙ্গে ডাকাত দল জাহাঙ্গীর বাহিনীর সংঘর্ষ হয়। পরে শরিফ বাহিনী ১১ জন জেলেকে তাদের নিয়ন্ত্রণে নিয়ে সুন্দরবনের অজ্ঞাত একটি স্থানে বন্দি করে রাখে।
বনদস্যুদের হাত থেকে রক্ষা পাওয়া জেলে রুবেল হাওলাদার বলেন, আমিসহ আরও ১০ জেলেকে ৩ মে রাতে সুন্দরবনের আলোর কোল এলাকা থেকে বনদস্যু জাহাঙ্গীর বাহিনী অপহরণ করে নিয়ে যায়। মুক্তিপণ দাবি করে আমাদের শিকল দিয়ে বেঁধে রাখে। পরে ৫ মে জাহাঙ্গীর বাহিনীর সঙ্গে শরিফ বাহিনীর গোলাগুলি হয়। শরিফ বাহিনীর সঙ্গে পেরে না উঠে জাহাঙ্গীর বাহিনী সরে যায়। পরে শরীফ বাহিনী আমাদের জিম্মি করে সুন্দরবনের অন্য একটি অজ্ঞাত জায়গায় আটকে রাখে। ৭ লাখ ৭০ হাজার টাকা মুক্তিপণ দেওয়ার পরে শরীফ বাহিনী আমাদের ১১ জেলেকে শুক্রবার ভোর রাতে ধানসাগর আড়ুয়াবয়ার নদীর মোহনায় নৌকায় করে ছেড়ে দেয়।
রুবেল হাওলাদার আরও বলেন, তিন দিন আমাদের ওপর অনেক অত্যাচার করেছে জাহাঙ্গীর বাহিনীর সদস্যরা।
নাম প্রকাশ না করা এক মহাজন বলেন, দস্যুরা প্রথমে প্রতিজনের এক লাখ টাকা করে মোট ১১ লাখ টাকা দাবি করে। অনেক বাগবিতণ্ডা ও দর কষাকষি করে প্রতিজনের ৭০ হাজার টাকা নিতে রাজি হয়। বিকাশের মাধ্যমে টাকা পরিশোধ করার পরে দস্যুরা জেলেদের ছেড়ে দেয়। আবারও বনে মাছ ধরতে গিয়ে বিপদে পড়তে পারে এই ভয়ে মুখ খুলতে চায় না জেলেরা।
শরণখোলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শামিনুল হক বলেন, আমরা শুনেছি সুন্দরবনে দস্যু বাহিনীকে মুক্তিপণ দিয়ে ১১ জেলে ফিরেছে। কিন্তু কেউ এখনো পর্যন্ত কোন অভিযোগ দেয়নি। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান তিনি।