সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগকারী নারী লিখিত বক্ত্যবে বলেন, আমি তাহমিনা আক্তার (মিতু), পিতা: মনতাছের রহমান, মাতা: আরজিনা বেগম, সাং: গ্রাম: শ্রীপতিপুর, ডাকঘর: মহিমাগঞ্জ, থানা: গোবিন্দগঞ্জ, জেলা: গাইবান্ধা, এই মর্মে আপনার সদয় অবগতি ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য জানাচ্ছি যে, রাঙ্গামাটি সদর উপজেলার কৃষি সম্প্রসারণ অফিসার জনাব ওসমান গনির আমি বৈধ স্ত্রী। আমি ও আমার ভাই পড়াশোনার জন্য রাজশাহীতে থাকাকালীন সময়ে জনাব ওসমান গনির সাথে পরিচয় হয়। পরবর্তীতে আমাদের মধ্যে সম্পর্কের গভীরতার সৃষ্টি হয় এবং ১৪ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ইং তার কিছু কাছের বন্ধুর উপস্থিতিতে ইসলামী শরিয়া মোতাবেক বিবাহ সম্পন্ন হয়। এর কিছুদিন পর আমি অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়ি। এই বিষয়ে তাকে জানালে সে এবর্শন করার জন্য চাপ দেয়। আমি তাকে দেশের বৈধ আইন অনুযায়ী কাবিন করার জন্য বলি কিন্তু সে তখন শর্ত জুড়ে দেয় যে, এবর্শন না করলে আমাকে সে আইনগতভাবে বিয়ে করবে না। পরবর্তীতে আমি এবর্শন করি এবং আমার পরিবারকে বিষয়টি অবগত করি এবং দুই পরিবারের সম্মতিতে ২ অগাস্ট, ২০১৯ আমাদের বিবাহ সম্পন্ন হয়। আমাদের বিয়ের দুই মাসের মাঝে পুনরায় আমি অন্তঃসত্ত্বা হই।
আমাকে ২০২০ সালের জানুয়ারি মাসে আনুষ্ঠানিকভাবে আমার বাবার বাড়ি থেকে তাদের বাড়িতে নিয়ে যায় এবং ২০২০ এর মে মাসের ৮ তারিখে আমাকে দেখাশোনা করা ও বাচ্চা হওয়ার জন্য বাবার বাড়িতে পাঠিয়ে দেয়। ২০২০ সালের জুনের ২২ তারিখ আমার একটি মেয়ে সন্তান হয়। বর্তমানে তার বয়স প্রায় ৬ বছর। আমার মেয়ে সন্তান হওয়ার খবর পেয়ে তারা পারিবারিকভাবে আমাদের সাথে সমস্ত যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেয় এবং আমাকে তাদের বাড়িতে তুলতে অস্বীকৃতি জানায়। দুই পরিবারের আত্মীয় স্বজনের মধ্যস্থতায় আবার আমি সংসার শুরু করি। তার বাবার বাড়ীতে অবস্থানকালে সে এবং তার পরিবার নিয়মিতভাবে আমাকে আমার বাবার বাড়ী হতে টাকা নিয়ে আসার জন্য চাপ দিত এবং আমার বাচ্চার কোন খরচ দিত না। আমি আমার বাবার কাছ হতে প্রতি মাসে কিছু টাকা নিয়ে আমার বাচ্চার খরচ মেটাতাম।
এর মধ্যে তার সরকারি চাকুরীর প্রস্ততির জন্য ঢাকাতে যেতে চায়। এবং আমাকে ক্রমশঃ চাপ সৃষ্টি করে আমার বাবার কাছ থেকে টাকা নিয়ে আসার। আমি আমার পরিবারের কাছ থেকে বাসার সমস্ত ফার্নিচার দেয়ার জন্য আমার বাবাকে বলি এবং আমার বাবা ঢাকায় থাকার জন্য ফার্নিচার কিনে দেয়। ঢাকাতে থাকার সময় সে আমাকে চাপ দিতে থাকে বাড়ি থেকে টাকা নেয়ার জন্য। আমি আমার বাড়ি হতে ২০০০০ টাকা এনে দিই। কিন্তু ২ মাস পরে সে আবার টাকার জন্য চাপ দেয়। আমি টাকা দিতে না পারলে সে আমাকে মেরে একটা রুমে আটকে রাখে। আমি ৯৯৯ এ ফোন দিয়ে প্রতিবেশীদের সহায়তায় আমার বাবার বাড়িতে চলে আসি। পরবর্তীতে ২০২৩ সালে অগ্রণী ব্যাংকে চাকরী হলে সে পুনরায় আমাকে বাবার বাড়ি হতে নিয়ে আসে। কিছুদিন পর সে মোটরসাইকেল কেনার জন্য আমাকে আমার বাবার বাড়ি হতে টাকা নিয়ে আসতে বলে। আমি আমার সংসারের কথা চিন্তা করে আমার বাবাকে বলি। আমার বাবা তখন মহিমাগঞ্জ ব্যাংক হতে ২০০০০০ টাকা পাঠান। আমার ননদ ও শাশুড়ী বলে এই টাকা কিছুই না। আরো টাকা লাগবে। এর মধ্যে সে জানায় যে আরো টাকা না দিলে সে আমাকে তালাক দিবে।
তার বিসিএস এ জয়েন করার চিঠি আসে এর মধ্যে এবং সে রাঙ্গামাটিতে পোস্টিং পায়। সে আমাকে জানায় রাঙ্গামাটিতে নতুন বাসায় উঠতে হবে। এজন্য সংসারের যাবতীয় জিনিসপত্র নিয়ে আসতে বলে। আমি আমার বাবার বাড়ি হতে সংসারের যাবতীয় জিনিসপত্র ও ফার্নিচার নিয়ে আসি যার আনুমানিক মূল্য ৩ লক্ষ টাকা। রাঙ্গামাটি থাকাকালীন সময়ে সে বিভিন্নভাবে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করতো। গত ঈদুল আজহার সময় সে আমাকে তার পিত্রালয় তথা আমার শশুড় বাড়িতে নিয়ে যায়।
বাসায় নিয়ে যাওয়ার পর আমি আমার শশুরের ফোনে একটি কাবিননামা দেখতে পাই, যার মাধ্যমে বুঝতে পারি এবং আমার স্বামী ওসমানও স্বীকার করে যে সে ২০২৫ এর সেপ্টেম্বরে পুনরায় বিয়ে করেছে। এরপর সে আমাকে ওয়াটসএপে তালাকনামা পাঠায় এবং আমার ২ টি বাচ্চার কোন খোঁজ নিচ্ছে না। এমতাবস্থায় আমরা মানবেতর জীবনযাপন করছি।
এমন কি বর্তমানে তার কর্মস্থল রাঙ্গামাটির আমাদের ভাড়ায় থাকা বাসাতেও আমাকে উঠতে দিচ্ছে না, ফলে আমি আমার শিশু বাচ্চাদের নিয়ে আশ্রয়হীন হয়ে পথে পথে ঘুরে বেড়াচ্ছি। একেক সময় একেক জনের আশ্রয় প্রার্থনায় নিত্যদিন পার করছি।
অতএব সবিনয় প্রার্থনা এই যে, উপর্যুক্ত বিষয়ে সংবাদ প্রকাশ করে আমাকে সহযোগিতা করলে সবার নিকট চিরকৃতজ্ঞ থাকব।