শুক্রবার (১ মে) বিকেলে নিজের ফেসবুক প্রোফাইলে এক পোস্টে আব্দুল কাদের প্রতিক্রিয়া জানান। পাঠকদের সুবিধার্থে তার পোস্টটি হুবহু তুলে ধরা হলো :
‘সাদিক ভাইকে অভিনন্দন এবং শুভকামনা! ডাকসু পরবর্তীতে সফলভাবে কার্যক্রম পরিচালনার জন্য শিক্ষার্থী এবং জনগণ নাকি চায়, তিনি সিটি নির্বাচন করুক আবার ডাকসু পরিচালনায় একটা মডেল স্থাপনের কারণে যেকোনো জায়গায় দাঁড়ালেই তিনি ভূমিধস বিজয় পাবেন বলে মিডিয়া বরাত জানিয়েছেন। এমন পরিস্থিতিতে তাঁকে অভিনন্দন না জানিয়ে উপায়ন্তর দেখছি না। এমনিও জানাতাম। তার জুলাইয়ের আগের এবং পরের ভূমিকা নিয়ে জনমনে নানান বিতর্ক আছে কিন্তু জুলাইয়ে যতটুকু ভূমিকা আছে, সেটা অস্বীকার করার সুযোগ নাই। আমিই মনে হয় সর্বপ্রথম সেটা প্রকাশ্যে এনেছি। অন্তত সেই ভূমিকার জন্য হলেও শুভকামনা জানাতে হবে তাকে।
জামাত থেকে সাদিক কায়েমকে মনোনয়ন দিছে দেখলাম। অথচ এই সাদিক ভাইরা ডাকসু নির্বাচনে শিক্ষার্থীদের কাছে নিজেরদেরকে এই একটা জায়গায় আলাদা হিসেবে দেখিয়েছেন। প্রতিপক্ষকের ব্যাপারে শিক্ষার্থীদের কাছে কুৎসা রটিয়েছেন। জোর গলায় প্রচার করেছেন, “তারা লেজুড়বৃত্তিক সংগঠন না, বাকি সবাই লেজুড়বৃত্তি করবে আর মাদার পার্টির এজেন্ডা বাস্তবায়ন করবে, সাধারণ শিক্ষার্থীদের জন্য কাজ করবে না।" শিক্ষার্থীরা এই বিষয়টা আসলেই আমলে নিয়েছে। অন্যান্য ইশতেহারের পাশাপাশি শিবিরের বিজয়ের জন্য এই বিষয়টা অন্যতম নিয়ামক হিসেবে কাজ করেছে।
কিন্তু কিছুদিন পরে দেখা গেলো , ভিপি সাহেব হেলিকপ্টারে উড়ে জমাতের প্রোগ্রাম করতেছেন, দিনরাত নির্বাচনী জনসভা করে বেড়াচ্ছেন! তখন কিছু শিক্ষার্থী শক খাইলো- “আয়হায় কইলো, লেজুড়বৃত্তি নাকি করবে না; তাহলে এখন এগুলা কি করতেছে!”
এখন আবার জামাত থেকে সিটি করপোরেশন নির্বাচন করতে দেখে বাদবাকি নাদান শিক্ষার্থীরাও শক খাবে, “ক্যাম্পাসে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি বিরাজমান, আবার এখনো মেয়াদ শেষ হয় নাই আর অ-লেজুড় ভিপিসাব তোড়জোড় শুরু করেছেন নিজের আর নিজ দলের আখের গুছানোতে!”
ভিপি'র কাজ শুধু সারা দেশে হেলিকপ্টার দিয়ে ঘুরে বেড়ানো আর মাঝেমধ্যে সময় পেলে ক্যাম্পাসে এসে ফ্রিজ-এসি উদ্ভোদন করা কি না, সেটা নিয়ে হয়তো বিস্তর আলাপ হবে। তবে ক্যাম্পাসে একটা পলিটিকাল সেটেলমেন্ট হাজির করা যে ভিপি হিসেবে তার অন্যতম দায়িত্ব ছিল এবং সেক্ষেত্রে তিনি যে পুরাপুরি ব্যর্থ হয়েছেন, সেই বিষয়ে কারোরই দ্বিমত থাকার কথা না এবং শিবিরের সমর্থকদেরও না। কারণ, তারাও আজকের রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতার শিকার।
সংগঠনের কালেক্টিভ ইফোর্টে হয়তো সাদিক কায়েম জিতে গেছে কিন্তু ব্যক্তি সাদিকের ক্যালিবার, ক্যারিশমা নিয়ে একটা অভিজ্ঞতা এবং ধারণা জনগণের মধ্যে এমনকি খোদ তার সংগঠনের মানুষের মাঝেও ইতিমধ্যে তৈরি হয়েছে। তারাও আঁচ করতে পারছে। ডাকসুর অভিজ্ঞতার পরে ঢাকা দক্ষিণের মানুষজন তার উপর আবারও আস্থা রাখবে কি না, জানি না। তারপরও জুলাইয়ের সালমান বর্তমান সাদিক কায়েমের জন্য শুভকামনা...’