সংসদে বক্তব্য রাখতে গিয়ে ফজলুর রহমান বলেন, কোনো মুক্তিযোদ্ধা বা শহীদ পরিবারের সদস্য জামায়াতে ইসলামী করতে পারেন না, করলে তা দ্বিগুণ অপরাধ হিসেবে বিবেচিত হবে। তার এই মন্তব্যের পর জামায়াতের সংসদ সদস্যরা তীব্র প্রতিবাদ জানান। অন্যদিকে বিএনপি ও সমমনা কয়েকজন সদস্য টেবিল চাপড়ে বক্তব্যের সমর্থন জানালেও পরিস্থিতি সামাল দিতে অনেকে এগিয়ে আসেন।
এ সময় জুলাই অভ্যুত্থান ও মুক্তিযুদ্ধের তুলনা এবং যুদ্ধাপরাধীদের বিষয়ে শোকপ্রস্তাবের বিরোধিতা নিয়েও সংসদে হইচই শুরু হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ সবাইকে শান্ত থাকার আহ্বান জানান এবং নিয়ম না মানলে সংসদ পরিচালনা কঠিন হয়ে পড়বে বলে সতর্ক করেন।
ফজলুর রহমান তার বক্তব্যে ৫ আগস্ট পরবর্তী রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়েও মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, ওই সময় থানায় হামলা, পুলিশ হত্যাসহ বিভিন্ন ঘটনা ঘটলেও সেগুলোর বিচার হওয়া উচিত এবং এসব বিষয়ে তদন্ত প্রয়োজন। তিনি আরও বলেন, ১৯৭১ সালের পর বহু রাজাকার আত্মসমর্পণ করলেও তিনি কাউকে হত্যা না করে জেলে পাঠিয়েছিলেন এবং তাদের বিচার হয়েছিল।
এরপর বিরোধী দলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান তার বক্তব্যে ফজলুর রহমানের মন্তব্যের সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, ব্যক্তিগত অবদান তুলে ধরতে গিয়ে অন্যের অবদানকে ছোট করা ঠিক নয়। একইসঙ্গে তিনি অভিযোগ করেন, তার রাজনৈতিক পরিচয় ও আদর্শ নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়েছে, যা তার নাগরিক অধিকারের পরিপন্থী।
তিনি আরও বলেন, কারও রাজনৈতিক পরিচয় বা আদর্শ বেছে নেওয়ার অধিকার সংবিধান স্বীকৃত, এতে হস্তক্ষেপ করার সুযোগ নেই। এ ধরনের মন্তব্যের তীব্র নিন্দা জানিয়ে তিনি স্পিকারের কাছে বক্তব্যের বিতর্কিত অংশ বাদ দেওয়ার অনুরোধ জানান।