আইয়ুব বাচ্চুর শুরুটা হয়েছিল বন্দরনগরী চট্টগ্রাম থেকে। ১৯৭৮ সালে ‘ফিলিংস’ ব্যান্ডের মাধ্যমে তার যাত্রা শুরু। এরপর তিনি দীর্ঘ এক দশক যুক্ত ছিলেন প্রবাদপ্রতিম ব্যান্ড ‘সোলসের’ সাথে। তবে তার সৃষ্টিশীলতার পূর্ণ বিকাশ ঘটে ১৯৯১ সালে, যখন তিনি নিজের ব্যান্ড ‘এলআরবি’ গঠন করেন। প্রথম অ্যালবাম থেকেই তিনি প্রমাণ করেছিলেন, তিনি সাধারণের চেয়ে আলাদা।
উপমহাদেশের অন্যতম শ্রেষ্ঠ গিটারিস্ট হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছিলেন আইয়ুব বাচ্চু। ব্লুজ, রক আর হার্ড রকের মিশেলে তিনি যে সুর তৈরি করতেন, তা মুহূর্তেই মানুষকে অন্য জগতে নিয়ে যেত। তার গিটারের মূর্ছনা এতটাই শক্তিশালী ছিল যে, বিদেশের মাটিতেও গিটারিস্টরা তার কাজের প্রশংসা করতেন।
‘এই রূপালি গিটার ফেলে, একদিন চলে যাব দূরে, বহুদূরে...’ তার নিজের গাওয়া এই গানটি যেন এক নির্মম ভবিষ্যদ্বাণী হয়ে ধরা দিয়েছিল ২০১৮ সালের ১৮ অক্টোবর।
আইয়ুব বাচ্চুর গান মানেই তারুণ্যের উন্মাদনা আর বিরহের গভীর সুর। তার জনপ্রিয় কিছু গানের তালিকার মধ্যে রয়েছে ‘সেই তুমি কেন এত অচেনা হলে’। বলা হয় এটি বাংলা ব্যান্ডের অন্যতম সেরা রোমান্টিক গান। রয়েছে ‘ফেরারি এই মনটা আমার’, ‘হাসতে দেখ গাইতে দেখ’ ‘এক আকাশের তারা তুই একা গুনিস নে’, ‘মা’।
সহকর্মী ও ভক্তদের কাছে তিনি ছিলেন কেবলই ‘বাচ্চু ভাই’ বা ‘বস’। নতুন ব্যান্ড দলগুলোকে এগিয়ে নিতে তিনি সব সময় হাত বাড়িয়ে দিতেন। গিটার নিয়ে তার যে প্যাশন ছিল, তা তিনি তরুণ প্রজন্মের মাঝে ছড়িয়ে দিতে চেয়েছিলেন। তার গিটার সংগ্রহ ছিল ঈর্ষণীয়, যা এখন সংরক্ষিত আছে তার স্মৃতি হয়ে।
আইয়ুব বাচ্চু দুনিয়ার মায়া ছেড়ে গেলেও রেখে গেছেন এক বিশাল শূন্যতা। যতদিন বাংলার আকাশে চাঁদ উঠবে, যতদিন গিটারের তারে আঙুল ছোঁয়াবে কোনো তরুণ, ততদিন আইয়ুব বাচ্চু বেঁচে থাকবেন তার গান ও আবেগের মাঝে।