চলমান পিএসএলে নিজেদের প্রথম ম্যাচে ২১৪ রান সংগ্রহের পরও হারতে হয়েছিল রাওয়ালপিন্ডিকে। দ্বিতীয় ম্যাচেও প্রায় দুইশ রান তোলার পর বোলাররা সেটিকে অপর্যাপ্ত প্রমাণ করলেন। রিশাদ আগের ম্যাচেও ৩৫ রান খরচ করেছিলেন, বিনিময়ে নেন ১ উইকেট। কিন্তু গতকাল (বৃহস্পতিবার) নামের প্রতি সুবিচার করতে পারলেন না, হাত ফসকে গেছে ক্যাচও। এখন পর্যন্ত খেলা নিজেদের দুটি ম্যাচেই হেরে নবাগত ফ্র্যাঞ্চাইজি রাওয়ালপিন্ডিজ পয়েন্ট টেবিলের সাতে অবস্থান করছে।
লাহোরের গাদ্দাফি স্টেডিয়ামে আগে ব্যাট করতে নেমে রাওয়ালপিন্ডিজ ঝোড়ো শুরু পেলেও, টপঅর্ডার তিন ব্যাটারকে অল্প সময়ের ব্যবধানে হারিয়ে বিপদে পড়ে। সেখান থেকে তাদের টেনে তোলেন ড্যারিল মিচেল ও স্যাম বিলিংস। দুজন মিলে ১২০ রানের জুটি গড়েন। ৪১ বলে ৫ চার ও ৩ ছক্কায় মিচেল ৬৫ এবং ৩৫ বলে ৮ চার ও এক ছক্কায় ৫৮ রান করেছেন। এ ছাড়া মোহাম্মদ রিজওয়ান ১৩ বলে ২১ এবং আব্দুল্লাহ ফজল ৭ বলে ১৮ রানের ক্যামিও ইনিংস খেললে প্রায় দুইশ রানের পুঁজি পায় রাওয়ালপিন্ডিজ। রিশাদ ব্যাটিংয়ে নেমেছিলেন ইনিংসের দুই বল বাকি থাকতে, যদিও এক বল খেলে কোনো রান করতে পারেননি।
করাচির পক্ষে হাসান আলি ৩ উইকেট নিয়েছেন। লক্ষ্য তাড়ায় নেমে করাচিও ভালো শুরু পায়। সাত ওভারে ১ উইকেট ৫৮ রান করে তারা। অষ্টম ওভারে বোলিংয়ে এসে রিশাদ দুই ওভারের স্পেলে ১২ রান দিয়েছেন। পরের দুই ওভারে অনিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ে খরচ করেছেন ২৬ রান। অবশ্য রাওয়ালপিন্ডির অন্য বোলাররাও সেভাবে কার্যকর কিছু করতে পারছিলেন না। ড্যারিল মিচেল অবশ্য রান খরচের পাশাপাশি মাঝেমধ্যে ব্রেকথ্রু দিচ্ছিলেন। তবে বাকিদের অসহায় করে ডেভিড ওয়ার্নার ও আজম খানরা দ্রুতগতিতে রান তুলেছেন।
ওয়ার্নার ৩৬ বলে ৬ চার ও ১ ছক্কায় ৫০ রান করে ফিরলেও, ২৮ বলে ফিফটি করে এগোতে থাকেন আজম। অষ্টাদশ ওভারে মোহাম্মাদ আমির খানকে পরপর চার ও ছক্কার পর ডিপ মিডউইকেটে তুলনামূলক সহজ ক্যাচ তুললেও রিশাদ তালুবন্দি করতে পারেননি। ১৯তম ওভারে আউট হওয়ার আগে ডানহাতি এই ব্যাটার ছয়টি করে চার ও ছক্কায় ৩৪ বলে ৭৪ রান করেছেন। তিনি ফিরলেও জয় পেতে অসুবিধা হয়নি করাচির। রাওয়ালপিন্ডির পক্ষে মিচেল সর্বোচ্চ ৩ উইকেট নিয়েছেন।
নিজেদের তিন ম্যাচের সবকটিতে জিতে পয়েন্ট টেবিলের শীর্ষে অবস্থান করছে ওয়ার্নার নেতৃত্বাধীন করাচি। ২ ম্যাচ জিতে দুইয়ে মুলতান সুলতান।