মামলায় যাদের আসামি করা হয়েছে, তাদের মধ্যে রয়েছেন- যশোর-৬ (কেশবপুর) আসনের সাবেক এমপি ও জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শাহীন চাকলাদার, যশোর-৪ (বাঘারপাড়া-অভয়নগর) আসনের সাবেক এমপি রণজিৎ রায়, যশোর-৫ (মনিরামপুর) আসনের সাবেক এমপি ও সাবেক প্রতিমন্ত্রী স্বপন ভট্টাচার্য, যশোর-২ (ঝিকরগাছা-চৌগাছা) আসনের সাবেক এমপি অ্যাডভোকেট মনিরুল ইসলাম, যশোর-৩ (সদর) আসনের সাবেক এমপি কাজী নাবিল আহমেদ এবং যশোর-৫ (মনিরামপুর) আসনের সাবেক এমপি ইয়াকুব আলী।
এছাড়া আসামির তালিকায় রয়েছেন যশোর সদর উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান তৌহিদুল ইসলাম ফন্টু চাকলাদার, যশোর জেলা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক ও যশোর পৌরসভার সাবেক মেয়র জহিরুল ইসলাম রেন্টু চাকলাদার, যুবলীগের সাবেক নেতা শহীদুজ্জামান বাবু ওরফে দাতাল বাবু, শেখ আতিকুর রহমান বাবু ওরফে জার্মান বাবু, যশোর শহরের পুরাতন কসবা কাজীপাড়ার ইয়াকুব আলীর ছেলে ফাহিম মোল্লা, সাবেক এমপি রণজিৎ রায়ের ছেলে রাজীব রায়, সাবেক প্রতিমন্ত্রী স্বপন ভট্টাচার্যের ছেলে শুভ ভট্টাচার্যসহ আরও অনেকে।
এছাড়াও রয়েছেন পৌর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মাহমুদ হাসান বিপু, জাহিদুল ইসলাম লাবু, কামাল হোসেন পর্বত, মনি, তৌফিক, সোহান, লোকমানের ছেলে বাবলু, মৃত কিবরিয়ার ছেলে ওয়াসেল, মৃত কাটোর ছেলে রবি, মৃত মোহাম্মদ আলীর ছেলে জাহাঙ্গীর, মাসুদের ছেলে আব্দুল্লাহ, সুজন, পট্টি, নুরুল আলমের ছেলে শরিফুল আলম সুজন, আইজুলের ছেলে চয়ন, শাওন, মুন্সি বাবুর ছেলে সবুজ, আরিফ আহাদুল, বজলু খলিফার ছেলে শাহাদত, মৃত খালেকের ছেলে আমিরুল, মৃত হারুনের ছেলে শহীদ, মৃত মোহাম্মদ আলীর ছেলে ডাবলু, সরোয়ারের ছেলে মিলন, মন্টুর ছেলে রিমন, যশোর সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মোহিত কুমার নাথ ও তার ছেলে রতি নাথ, এবং ষষ্ঠীতলাপাড়ার সৈয়দ আহমেদের ছেলে আনোয়ার হোসেন বাবু।
এজাহারে এসআই আশরাফ উদ্দিন উল্লেখ করেন, গত ২৮ এপ্রিল সন্ধ্যা সাড়ে সাতটার দিকে বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক প্রকাশিত গেজেটের মাধ্যমে নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন আওয়ামী লীগ ও তার অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা শহরের মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্সের পাশের আজিজ সিটি রোডে একত্রিত হয়ে সরকারবিরোধী স্লোগান দেয়। এ সময় তারা মোমবাতি ও হারিকেন জ্বালিয়ে প্রায় ৮০ থেকে ১০০ জন অংশগ্রহণকারীর মাধ্যমে বিভিন্ন স্লোগান দেয়।
পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছালে আসামিরা ছত্রভঙ্গ হয়ে যায়। এদের মধ্যে প্রথম ১৩ জনকে নিষিদ্ধ সংগঠনের গডফাদার ও অর্থ যোগানদাতা হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। বাকি ২৭ জনকে নিষিদ্ধ সংগঠনের সদস্য, সন্ত্রাসী এবং বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত বলে উল্লেখ করা হয়েছে। তারা এখনও বিভিন্ন সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড ও দেশবিরোধী ষড়যন্ত্রে লিপ্ত রয়েছে বলেও এজাহারে বলা হয়।
এজাহার দাখিলের আগে মঙ্গলবার সকালে ও রাতে আওয়ামী লীগের ফেসবুক পেজে যশোরে যুবলীগের দুটি কর্মসূচি পালনের দাবি করে ভিডিও প্রকাশ করা হয়। সেখানে শহরের গরীবশাহ রোডে মিছিল ও বিভিন্ন স্লোগানের দৃশ্য দেখানো হয়। একই পেজে আরও একটি কর্মসূচির ভিডিও প্রচার করা হয়।
এ বিষয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তদন্তে নেমে মিছিলে অংশ নেয়ার অভিযোগে ইতোমধ্যে ৯ জনকে গ্রেপ্তার করেছে। বুধবার মধ্যরাত পর্যন্ত পুলিশের একাধিক দল শহরের বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করে।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন- কাজীপাড়া এলাকার আনসার আলীর ছেলে সৈয়দ তৌফিক জাহান, একই এলাকার নুরল আলমের ছেলে শফিকুল ইসলাম সুজন, মৃত লোকমানের ছেলে বাবলু শেখ, শহিদুল ইসলামের ছেলে সোহান হোসেন, ষষ্ঠীতলা এলাকার সৈয়দ আহমদের ছেলে আনোয়ার হোসেন বাবু, যশোর সদর উপজেলার ভেকুটিয়া কারিগরপাড়ার শহিদুল ইসলামের ছেলে মনিরুল ইসলাম, সুজলপুরের রফিক উদ্দিনের ছেলে সুমন, সুমনের ছোট ভাই ইমন এবং ভেকুটিয়ার মৃত সলেমান দফাদারের ছেলে শাহাজাহান।
এ বিষয়ে কোতোয়ালি থানার ওসি মাসুম খান বলেন, যুবলীগের ব্যানারে বিক্ষোভ মিছিলের ঘটনায় ৪০ জনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাত ৮০ থেকে ১০০ জনের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। এদের মধ্যে বুধবার রাতে অভিযান চালিয়ে ৯ জনকে আটক করা হয়। পরে তাদের আদালতে সোপর্দ করা হলে বিচারক তাদের কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।