উপজেলার হিঙ্গুলী ইউনিয়নের মেহেদিনগর এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। জানা যায়, পরীক্ষার্থী নওশীনের বাবা আবুল খায়ের গত ১৮ এপ্রিল অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হন। চিকিৎসাধীন অবস্থায় বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) ভোরে তিনি মৃত্যুবরণ করেন।
এদিকে, ২১ এপ্রিল থেকে শুরু হওয়া এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় নিয়মিত অংশ নিচ্ছিল নওশীন। বাবার একমাত্র মেয়ে হওয়ায় তার মানসিক অবস্থা বিবেচনায় নিয়ে পরিবার একটি কঠিন সিদ্ধান্ত নেয়। পরীক্ষায় যেন কোনো প্রভাব না পড়ে, সে কারণে সকালে তাকে বাবার মৃত্যুর খবর জানানো হয়নি।
পরিবারের সদস্যরা প্রতিদিনের মতো স্বাভাবিক সময়ে না নিয়ে, সেদিন তাকে প্রায় দুই ঘণ্টা আগেই পরীক্ষা কেন্দ্রে পাঠায়। আবহাওয়া খারাপ ও ঝড়তুফানের আশঙ্কার বাহানা দিয়ে তাকে দ্রুত পরীক্ষা কেন্দ্রে নিয়ে আসে।
নিহতের ভাগ্নে জিয়া উদ্দিন জানান, “আমার খালাতো বোনের এসএসসি পরীক্ষা চলছে। আঙ্কেল ভোর ৩টার দিকে মারা যান। তার পরীক্ষার কথা চিন্তা করে আমরা কাউকে জানাইনি, এমনকি লাশও বাড়িতে আনা হয়নি। তাকে আগেভাগে কেন্দ্রে পাঠানোর পর আমরা মরদেহ বাড়িতে নিয়ে আসি।”
পরীক্ষা শেষে বাড়ি ফিরে চারপাশের পরিস্থিতি দেখে মুহূর্তেই স্তব্ধ হয়ে যায় নওশীন। তখনই সে জানতে পারে, তার প্রিয় বাবা আর নেই। এ ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। আবেগাপ্লুত হয়ে পড়ে স্বজন ও প্রতিবেশীরা।
এম জাবেদ হোসাইন, মীরসরাই প্রতিনিধি