বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে খাদিমপুর ইউনিয়ন পরিষদ চত্বরে এ ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সাময়িক অপসারণের পর হাইকোর্টের আদেশে পুনরায় দাপ্তরিক কাজে যোগ দিতে আসেন চেয়ারম্যান মোজাহিদুর রহমান জোয়ার্দ্দার লোটাস। তিনি পরিষদে কার্যক্রম শুরু করলে ক্ষুব্ধ কিছু স্থানীয় লোকজন পরিষদে গিয়ে ইট-পাটকেল নিক্ষেপ করে এবং তার কক্ষে ঢুকে ভাঙচুর চালায়। একপর্যায়ে তাকে কক্ষে অবরুদ্ধ করে রাখা হয়। পরে চেয়ারম্যানের সমর্থকরা ঘটনাস্থলে গিয়ে পাল্টা ধাওয়া দিলে হামলাকারীরা চারটি মোটরসাইকেল ফেলে পালিয়ে যায়। সেগুলো ভাঙচুর করা হয়। খবর পেয়ে পুলিশ এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
চেয়ারম্যান মোজাহিদুর রহমান জোয়ার্দ্দার লোটাস অভিযোগ করে বলেন, তিনি নিয়মিত দাপ্তরিক কাজ করছিলেন। এসময় একদল লোক পরিষদে এসে তাকে ঘেরাও করে এবং ইট-পাটকেল নিক্ষেপ করে। কিছু সময়ের জন্য তাকে কক্ষে অবরুদ্ধ রাখা হয়। পুরো ঘটনা সিসিটিভি ক্যামেরায় ধারণ হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।
অন্যদিকে, একই সময়ে নাগদাহ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এজাজ ইমতিয়াজ বিপুল এবং কালিদাসপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান শেখ আশাদুল হক মিকাকে তাদের নিজ নিজ পরিষদ থেকে ধাওয়া দিয়ে বের করে দেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। তারাও দাপ্তরিক কাজে উপস্থিত ছিলেন বলে জানা গেছে। পরবর্তীতে সেখানেও পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
পুলিশ জানায়, আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পর গত ৫ আগস্ট খাদিমপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যানকে সাময়িক অপসারণ করে প্রশাসক নিয়োগ দেওয়া হয়। পরে হাইকোর্টে রিট করলে তিনি পুনরায় পরিষদে বসার অনুমতি পান।
চুয়াডাঙ্গার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌছে সবগুলো পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নেয়। খাদিমপুরের ঘটনায় জসিম নামে একজনকে আটক করা হয়েছে। বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে।
এদিকে, একই ধরনের রিটের প্রেক্ষিতে আলমডাঙ্গার চিৎলা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান হাসানুজ্জামান সরোয়ার, খাসকররা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান তাসফির আহমেদ লাল এবং ডাউকি ইউনিয়নের চেয়ারম্যান তরিকুল ইসলামও পরিষদে বসে দাপ্তরিক কাজ করার অনুমতি পেয়েছেন।