বিদ্যালয়ের একাধিক শিক্ষার্থী দাবি করেছে, ২০২১ সালে মাহমুদ স্যার নতুন যোগদানের পর একটি ঘটনা ঘটেছিল, যা পরবর্তীতে ভুল বোঝাবুঝি হিসেবে সমাধান হয়। এরপর এ ধরনের কোনো ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঘটেনি বলেও তারা উল্লেখ করে। শিক্ষার্থীদের ভাষ্য, বর্তমানে যে অভিযোগগুলো প্রচারিত হচ্ছে সেগুলো সাম্প্রতিক নয় এবং বাস্তবতার সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ নয়। তারা আরও জানায়, স্যার আমাদের সন্তানসম দৃষ্টিতে দেখেন, তার আচরণে অসঙ্গত কিছু আমরা দেখিনি।
তবে শিক্ষার্থীদের আরও অভিযোগ, গত বৃহস্পতিবার সকালে প্রধান শিক্ষক তাদের কক্ষে ডেকে সাংবাদিকদের দেওয়া বক্তব্য লিখিত আকারে দিতে বলেন। তা না হলে উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তার মাধ্যমে বিদ্যালয় থেকে বহিষ্কারের হুমকি দেওয়া হয় বলে দাবি করে তারা। এতে অনেক শিক্ষার্থী মানসিকভাবে চাপে পড়ে ও হতাশ হয়ে পড়ে।
এদিকে বিদ্যালয়ের একাধিক শিক্ষক ও শিক্ষিকা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, সরদার মাহবুবুর রহমানের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ ‘পরিকল্পিত’ হতে পারে। তাদের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে তারা ওই শিক্ষকের সঙ্গে কাজ করছেন এবং এমন আচরণের কোনো বাস্তব প্রমাণ তারা আগে দেখেননি। বরং অভিযোগগুলো প্রতিষ্ঠানের অভ্যন্তরীণ বিরোধ বা ব্যক্তিগত দ্বন্দ্বের ফল হতে পারে বলে তারা মনে করেন।
কয়েকজন শিক্ষক আরও জানান, সংশ্লিষ্ট শিক্ষকের সঙ্গে প্রধান শিক্ষকের কিছু প্রশাসনিক বিষয় নিয়ে মতবিরোধ রয়েছে, যা মাঝেমধ্যে উত্তেজনার সৃষ্টি করে। এই পরিস্থিতিকে কেন্দ্র করে একটি পক্ষ উদ্দেশ্যমূলকভাবে বিষয়টি ভিন্নখাতে প্রবাহিত করতে পারে বলেও তারা আশঙ্কা প্রকাশ করেন।
এছাড়া স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রতিষ্ঠানিক সুবিধা নেওয়ার উদ্দেশ্যে বাইরের কোনো মহল থেকেও ষড়যন্ত্রের সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।
অভিযোগের বিষয়ে সরদার মাহবুবুর রহমান বলেন, “আমাকে নিয়ে একটি পরিকল্পিত ষড়যন্ত্র চলছে। কিছুদিন আগে প্রতিষ্ঠানিক দুর্নীতির বিষয় নিয়ে প্রধান শিক্ষকের সঙ্গে আমার মতবিরোধ হয়েছিল। আমার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগগুলো সম্পূর্ণ মিথ্যা, বানোয়াট ও ভিত্তিহীন। কেউ এ ধরনের অভিযোগ প্রমাণ করতে পারবে না।” তিনি বিষয়টি সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত সত্য উদঘাটনের জন্য প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেন।
এদিকে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক দীপক দাস অভিযোগের বিষয়ে বলেন, বিষয়টি নিয়ে উপজেলা প্রশাসন আমাকে শিক্ষার্থীদের লিখিত বক্তব্য নিতে বলেছে। আমার সঙ্গে কারও কোনো ঝামেলা নেই। আমরা চাই বিদ্যালয়ে স্বাভাবিক পরিবেশ বজায় থাকুক।
প্রসঙ্গত, এ ঘটনায় পূর্বে প্রকাশিত সংবাদের পর এলাকায় ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়। সংশ্লিষ্ট সকল পক্ষই এখন সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটনের দাবি জানিয়েছেন।