রোববার (৫ জুলাই) সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত শহরের শহীদ টিটু মিলনায়তনে বিরতিহীনভাবে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। দিনভর ভোটকেন্দ্রে ছিল উৎসবের আমেজ। দীর্ঘদিন পর ভোট দেওয়ার সুযোগ পেয়ে ব্যবসায়ীদের মধ্যে ছিল ব্যাপক উৎসাহ ও স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ।
নির্বাচন পরিচালনা কমিটির তথ্য অনুযায়ী, চেম্বারের এক হাজার ৭৭ জন ভোটারের মধ্যে ৯৩০ জন ভোটাধিকার প্রয়োগ করেন। ভোটের হার ছিল ৮৬ দশমিক ৩ শতাংশ। কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা ছাড়াই শান্তিপূর্ণভাবে ভোটগ্রহণ ও গণনা সম্পন্ন হয়।
ফলাফল অনুযায়ী, সভাপতি পদে ‘গোলাপ ফুল’ প্রতীকে ৬৯৬ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন আতিকুর রহমান বাদল। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতে ইসলামী-সমর্থিত ‘সেলিম-এরশাদ প্যানেল’-এর প্রার্থী মো. সেলিম রেজা ‘ছাতা’ প্রতীকে পেয়েছেন ২২৭ ভোট। এ পদে ছয়টি ভোট বাতিল হয়।
সহসভাপতি পদে বিজয়ী হয়েছেন হামিদুল হক চৌধুরী হিরু (৭২৬ ভোট) এবং মামদুদুর রহমান শিপন (৫৯১ ভোট)। তাদের প্রতিদ্বন্দ্বী এরশাদুল বারী এরশাদ পেয়েছেন ২৫৩ ভোট এবং মামুনুর রশীদ মামুন পেয়েছেন ১৯৬ ভোট।
পরিচালক পদে নির্বাচিত হয়েছেন পরিমল চন্দ্র দাস, খন্দকার মেজবাহুল হক রন্টু, মো. আজিজার রহমান মিল্টন, শাহিনুর ইসলাম সবুজ, এস এম নূর-ই আলম সিদ্দিকী পল্লব, মো. রাসেদুল ইসলাম, মো. শফিকুল ইসলাম খোকন, শামসুল হক বেনু এবং মো. মতিউর রহমান।
বগুড়া চেম্বারে সর্বশেষ সরাসরি ভোট হয়েছিল ২০০৭ সালে। এরপর দীর্ঘ সময় নির্বাচন ছাড়াই অথবা সমঝোতার ভিত্তিতে কমিটি গঠিত হওয়ায় সাধারণ সদস্যরা ভোটাধিকার প্রয়োগের সুযোগ থেকে বঞ্চিত ছিলেন। ২০২৪ সালের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনায় নির্বাচন পরিচালনা কমিটি গঠিত হলে দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটে।
এবারের নির্বাচনে কার্যনির্বাহী কমিটির ১২টি পদের বিপরীতে দুটি প্যানেল ও স্বতন্ত্র প্রার্থী মিলিয়ে মোট ২৮ জন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। সকাল থেকেই ভোটকেন্দ্রে ছিল উৎসবের আবহ। ভোটাররা সুশৃঙ্খলভাবে লাইনে দাঁড়িয়ে তাদের পছন্দের প্রার্থীদের ভোট দেন।
নির্বাচন পরিচালনা কমিটির চেয়ারম্যান ও জেলা অতিরিক্ত নির্বাচন কর্মকর্তা আছিয়া খাতুন বলেন, “অত্যন্ত সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ভোটগ্রহণ এবং ফলাফল ঘোষণা সম্পন্ন হয়েছে। ব্যবসায়ীরা স্বতঃস্ফূর্তভাবে তাদের নেতৃত্ব নির্বাচন করেছেন।”
দীর্ঘ বিরতির পর অনুষ্ঠিত এই নির্বাচনকে বগুড়ার ব্যবসায়ী সমাজে গণতান্ত্রিক চর্চার নতুন সূচনা হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা। তাদের প্রত্যাশা, নবনির্বাচিত নেতৃত্ব ব্যবসায়ীদের স্বার্থরক্ষা, শিল্প-বাণিজ্যের প্রসার এবং চেম্বারের কার্যক্রমে আরও গতিশীলতা আনতে কার্যকর ভূমিকা রাখবে।