শনিবার যশোর প্রেস ক্লাবে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব অভিযোগ করেন। লিখিত বক্তব্যে সোনিয়া আক্তার দিয়া জানান, তার বাড়ি অভয়নগর উপজেলার পোতপাড়া গ্রামে। ২০২৪ সালে ফেসবুকের মাধ্যমে যশোর সদরের শংকরপুর এলাকার এহসান আহমেদ ফয়সালের সঙ্গে তার পরিচয় ও প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। একপর্যায়ে তাকে কুয়াকাটায় ঘুরতে নিয়ে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে হোটেলে নিয়ে গিয়ে ধর্ষণ করা হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি। পরবর্তীতে বিয়ের জন্য চাপ দিলে অভিযুক্ত ফয়সাল বিয়ে করতে অস্বীকৃতি জানায়। এ ঘটনায় তিনি ২০২৫ সালের ১৫ মে যশোর কোতোয়ালী মডেল থানায় একটি ধর্ষণ মামলা দায়ের করেন, যা বর্তমানে বিচারাধীন রয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে তিনি আরও অভিযোগ করেন, মামলা দায়েরের পর অভিযুক্ত ফয়সাল, তার বাবা-মা ও আত্মীয়রা তাকে মীমাংসার কথা বলে ডেকে নিয়ে ভয়ভীতি দেখিয়ে মামলা তুলে নিতে চাপ সৃষ্টি করে। এতে রাজি না হওয়ায় তাকে জোরপূর্বক বিষ খাইয়ে অচেতন অবস্থায় ফেলে রাখা হয়। পরে স্থানীয় লোকজন তাকে উদ্ধার করে যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করে। এ ঘটনায় তিনি ২০২৫ সালের ১১ সেপ্টেম্বর হত্যাচেষ্টা মামলা দায়ের করেন।
এছাড়া অভিযুক্তরা বিভিন্ন সময় ফোনে ও সরাসরি হত্যার হুমকি দিয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি। তার বাসায় সন্ত্রাসী পাঠিয়ে ভয়ভীতি প্রদর্শন, গুম ও এসিড নিক্ষেপের হুমকি দেওয়ার অভিযোগও করেন সোনিয়া।
তিনি আরও বলেন, তার ও অভিযুক্তের অন্তরঙ্গ মুহূর্তের কিছু ছবি ছড়িয়ে দেওয়ায় তিনি ২০২৫ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্নোগ্রাফি আইনে আরও একটি মামলা দায়ের করেছেন।
সোনিয়া অভিযোগ করেন, তিনি আইনি লড়াই চালিয়ে যাওয়ায় তার পরিবারকে হয়রানি করা হচ্ছে। তার প্রতিবন্ধী পিতা ও ভাইয়ের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দিয়ে ছোট ভাইকে গ্রেফতার করা হয়েছে বলেও তিনি দাবি করেন।
তিনি বলেন, “আমার বাসায় হামলা, ভাঙচুর, আমাকে ধর্ষণ ও হত্যাচেষ্টা করা হলেও আসামিরা গ্রেফতার হচ্ছে না। আমি গরিব বলে বিচার পাচ্ছি না।” সংবাদ সম্মেলনে তিনি ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের দ্রুত গ্রেফতার করে আইনের আওতায় আনার জন্য প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি জোর দাবি জানান।
তিনি সাংবাদিকদের প্রতি অনুরোধ জানিয়ে বলেন, “আপনারা নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত সত্য দেশবাসীর সামনে তুলে ধরুন।”
উল্লেখ্য, এ বিষয়ে অভিযুক্তদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।