১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ ভয়াল কালোরাতের পর থেকে ৩রা এপ্রিল পর্যন্ত তৎকালীন বাঙালী ইপিআর ও পুলিশ সদস্য এবং ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরা প্রতিরোধ যুদ্ধ চালিয়ে আসছিলেন। এর মাঝেও প্রতিরোধ যুদ্ধে আওয়ামী লীগ এবং ছাত্রলীগের সদস্যরা যেমন প্রাণ হারাচ্ছিলেন, তেমনি পাকিস্তানী সেনা এবং অবাঙালীদের আকস্মিক হামলায় শহরের বেজপাড়া, পুরাতন কসবা, রেলগেট, মুড়লি প্রভৃতি এলাকায় প্রাণ হারাচ্ছিলেন নিরীহ মানুষ। সেই ভয়াল গণহত্যা দিবস উপলক্ষে শনিবার সকালে যশোর শহরের শংকরপুরে বধ্যভূমিতে বীর শহীদদের প্রতি ফুলেল শ্রদ্ধা জানানো হয়। পরে এক মিনিট নিরাবতা কর্মসূচী পালন করা হয়। গণহত্যা দিবস পালন কমিটির উদ্যোগে এই কর্মসূচীতে সকল পেশা শ্রেনীর মানুষ অংশ গ্রহন করেন।
এই কর্মসূচীতে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, বীর মুক্তিযোদ্ধা এডভোকেট রবিউল আলম, আফজাল হোসেন দোদুল, গণহত্যা দিবস পালন কমিটির আহবায়ক হারুন অর রশিদ, সদস্য সচিব রিয়াদুর রহমান, রাজীনতিক ব্যাক্তিত্ব ইকবাল কবির জাহিদ, জিল্লুর রহমান ভিটু, জাসদের সাংগঠনিক সম্পাদক শরিফ আহমেদ বাপ্পি, প্রচার সম্পাদক সোহেল আহমেদ, সাংবাদিক ফারাজী আহমেদ সাঈদ বুলবুল, সাজেদ রহমান, প্রনব দাস, আবুল বাশার মুকুল, পুজা উদযাপন পরিষদ নেতা জোগেষ দত্ত, মুক্তিযোদ্ধার সন্তান কমান্ডের আহবায়ক কামরুল ইসলাম, সদস্য নুর ইমাম বাবুল প্রমুখ। আজ বিকেলে যশোর টাউন হল মাঠে গণহত্যা দিবস পালন কমিটির উদ্যোগে স্মরণ সভা অনুষ্ঠিত হবে।ভয়াবহ গণহত্যার ঘটনা তুলে ধরে বীর মুক্তিযোদ্ধা এডভোকেট রবিউল আলম বলেন, ১৯৭১ সালের ২৮ মার্চ বাঙালী সৈনিক ইপিআরের গণ বিদ্রোহ ঘোষনা করে তারা স্বাধীনতা সংগ্রামে অংশগ্রহন করেছিলো। একই দিনে যশোর পুলিশ লাইনে পুলিশ বিদ্রোহ হয়েছিলো বাঙালী পুলিশ সদস্যরা স্বাধীনতা সংগ্রামে অংশগ্রহন করেছিলো বিদ্রোহের মধ্যেদিয়ে। ২৯ ও ৩০ তারিখ যশোর ক্যান্টমেন্টে বাঙালী সৈনিকদের বিদ্রোহ হওয়ার পর ৩রা এপ্রিল পর্যন্ত বাঙালী মুক্তিকামী জনতা, বাঙালী সৈনিক ইপিআর, পুলিশ এবং ছাত্র যুবকদের দখলে চলে আসে সেসময় আর পাকিস্তানী কর্তৃপক্ষের যশোর শহরের উপর আর কোন নিয়ন্ত্রনে ছিলোনা।
৪ এপ্রিল ক্যান্টমেন্ট থেকে আর্মি বেরিয়ে যশোর শহরে নিয়ন্ত্রন নিয়ে নেয় এবং তারা গণহত্যা শুরু করে এসময় তারা বারান্দিপাড়া, ষষ্টিতলা পাড়া, পোষ্ট অফিস পাড়া, পুরাতন কসবা, রেলষ্টেশন, সদর হাসপাতাল, কোতয়ালী থানাসহ বিভিন্ন যায়গায় যেয়ে তারা গণহত্যাকান্ড চালায় এই হত্যাকান্ডে অনুমান করা যায় কয়েকশত মানুষ প্রথম দিনেই শহীদ হয়।আমরা যশোর বাসি এই যে নৃশংশ হত্যাকান্ড যেটা আমাদের মুক্তিযুদ্ধে মানুষের যে প্রান উৎসর্গ করা প্রথম ঘটনা ব্যাপক হারের তার প্রথম ঘটনা যশোরে ৪ঠা এপ্রিল ৫এপ্রিল এবং তার পর পর এভাবেই ঘটতেই থাকে। সেই জন্য আত্যউৎসর্গকারীদের প্রতি জন্য শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য আমাদের মুক্তিযুদ্ধে কি ধরনের নিশৃংশতা পকিস্তানি আর্মি করেছে সেটাকে আজকের প্রজন্মেকে জানানো ইতিহাসে সংরক্ষন করার জন্য এবং এই গণহত্যার মধ্যে দিয়ে আমাদের নয় মাস যে লক্ষ্যে প্রান বিসর্জন দিয়েছি স্বাধীনতা অর্জনের জন্য লক্ষ প্রানের বিনিময়ে স্বাধীনতা অর্জন হয়েছে। তার শুরুটা এভাবেই ছিলো। তাই আমরা আজকে যশোরে যশোরবাসির পক্ষ থেকে ৪ঠা এপ্রিল এখানে যশোর গণহত্যা দিবস পালন করছি। এটি প্রথম নয়। আমরা ইতিপুর্বে শুরু করেছি, প্রতিবছরই এটা পালন করা হয়। যশোর গণহত্যা দিবস পালন করার জন্য এখানকার মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের রাজনৈতিক দল, সাংস্কৃতিক সংগঠন, ব্যাক্তি, শহীদ পরিবার, মুক্তিযোদ্ধার সন্তানেরা এবং যুব ও ছাত্র সংগঠন যারা আজকের কর্মসূচী পালন করার জন্য এখানে উপস্থিত রয়েছেন আমাদের মুক্তিযুদ্ধকে ধারন করে তার আদর্শকে ধারণ করে এবং যারা বিশ্বাস করে বাঙালী জাতির নিজস্ব স্বাধীনরাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার জন্যই মুক্তিযুদ্ধ হয়েছিলো তারা সমবেত হয়েই এদিনটি আমরা এখানে উদ্যোগ নিয়ে পালন করে থাকি।